Thursday, 31 July 2014

আল্লাহ্‌ভীতি

আল্লাহ্‌ভীতি

ফকীহ হযরত আবুল লাইস (রহ) বলেছেন, “কারও হৃদয় প্রকৃতই আল্লাহ্‌র ভয়ে ভীত কিনা তা সাতটি নিদর্শন বা আলামতের প্রতি লক্ষ্য করলে বুঝা যাবে। এগুলো কারও চাল-চলন, কথাবার্তা, ভাব-ভঙ্গি ও জীবনধারায় দৃষ্ট হলে বুঝা যাবে, তাঁর মনে আল্লাহ্‌ ভীতি পরহেজগারি সুসংহত হয়েছে। সেই লক্ষণগুলো হল –

১। এ লক্ষণটি জবানের সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ তার জবান মিথ্যা, বানোয়াট, গীবত, চোগলখোরি, অপবাদ, অপ্রীতিকর কথাবার্তা ও অহেতুক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকবে এবং সর্বদা আল্লাহ্‌র স্মরণ, কোরআন তিলাওয়াত ও ইলমে দ্বীনের চর্চায় নিজেকে নিমগ্ন রাখবে।

২। এ আলামত হৃদয়ের সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ অপরের প্রতি শত্রুতা পোষণ করা, বিনা দোষে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং হিংসা বিদ্বেষ, ঘৃণা প্রভৃতি সংক্রামক ব্যাধি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত পবিত্র থাকবে। হাদিস শরীফে আছে –

“হিংসা বিদ্বেষ নেক আমলসমূহ এমনভাবে গ্রাস করে, যেমন আগুন কাঠ জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দেয়”

৩। এ আলামতটি মানুষের চক্ষুর সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, পরহেজগার ব্যক্তি আল্লাহ্‌র ভয়ে ভীত থেকে তাঁর দৃষ্টিকে হারাম খাদ্য, নিষিদ্ধ পানীয় বস্তু, হারাম লেবাস পোশাক থেকে দূরে রাখবে এবং পার্থিব বস্তুসমূহের প্রতি কখনও লোলুপ দৃষ্টি দিবে না; বরং আল্লাহ্‌র অনুপম সৃষ্টি ও কুদরতের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তা থেকে শিক্ষা লাভ করবে। হারাম ও নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি কখনও দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন –

“যে ব্যক্তি স্বীয় চক্ষুকে হারাম জিনিসের প্রতি দৃষ্টিপাত দ্বারা পরিতৃপ্ত করবে, কেয়ামত দিবসে আল্লাহ্‌ পাক সে চক্ষুকে জাহান্নামের অগ্নি দ্বারা পূর্ণ করবেন”

৪। এ আলামত উদরের সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ আল্লাহ্‌র ভয়ে ভীত ব্যক্তি তাঁর উদরকে অবৈধ পথে উপার্জিত রুজি থেকে রক্ষা করবে। কারণ অবৈধ পথে উপার্জিত রিজিক আহার করা মহাপাপ। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন –

“যখন আদম সন্তানের পেটে হারাম খাদ্যের কোন লোকমা পড়ে, তখন ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের সকল ফেরেশতা তাঁর উপর অভিসম্পাত করতে থাকে, যে পর্যন্ত এ লোকমা তার উদরে মওজুদ থাকে। আর উক্ত লোকমা উদরে নিয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হলে তাঁর ঠিকানা হয় জাহান্নাম”

৫। এ লক্ষণ হাতের সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ যে ব্যক্তি পরহেজগার, সে কখনও স্বীয় হস্ত হারাম বস্তুর দিকে প্রসারিত করবে না; বরং সাধ্যানুযায়ী সর্বদা স্বীয় হস্তকে আল্লাহ্‌র নাফরমানীমূলক কাজ থেকে বিরত রেখে তাঁর দাসত্ব ও আনুগত্যের কাজে ব্যবহার করবে।

৬। এ আলামত পদযুগলের সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র ভয়ে ভীত, তাঁর পদযুগল আল্লাহ্‌র নাফরমানী ও অবাধ্যতার কাজে ব্যবহার হবে না; বরং সদা আল্লাহ্‌র আনুগত্য ও সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহৃত হবে এবং আল্লাহ্‌র প্রিয় বান্দাদের দিকে ধাবিত হবে।

৭। এ আলামত ইবাদত ও রিয়াযত সম্পর্কিত। অর্থাৎ মুত্তাকী ব্যক্তি খালেস নেক নিয়তে শুধু আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য তাঁর নাফরমানীমুলক যাবতীয় কার্য পরিহার করে একমাত্র তাঁর ইবাদত বন্দেগী ও সাধনা পরিশ্রমে নিমগ্ন থাকবে। মূলতঃ মানুষের উচিত এসব সাধনা ও ইবাদতের মূলে একমাত্র স্রষ্টা আল্লাহ্‌র রেযা বা সন্তুষ্টিকেই সম্মুখে রাখা। এতে কোন প্রকার রিয়া বা লোক দেখানো মনোবৃত্তি ও কপটতাকে স্থান না দেয়া। এ বিষয়ে সফলতা লাভ করতে পারলে সে সেসব মহান ভাগ্যবান লোকের দলভুক্ত হবে, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ্‌ তালা এরশাদ করেছেন –

“মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে তোমার রবের নিকট পরকালের কল্যাণ” – সূরা যুখরুফ; ৩৫

আরও এরশাদ করেছেন –

“মুত্তাকীরা থাকবে ঝর্না-বহুল বেহেশতে” – সূরা হিজর; ৪৫
“মুত্তাকীরা থাকবে বেহেশতে ও ভোগ বিলাসে” – সূরা তূর; ১৭
“মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে” – সূরা দুখান; ৫২

- [ ইমাম গাজ্জালী (র:) (মরণের আগে ও পরে) ]

0 comments:

Post a Comment