Monday, 4 August 2014

একটি ঘটনা হাসান সনদে ইমাম বাইহাক্বী বর্ণনা

একটি ঘটনা

হাসান সনদে ইমাম বাইহাক্বী বর্ণনা করেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মানুষের মাঝে তাওহীদের দা‘ওয়াত নিয়ে আত্মপ্রকাশ করলেন, তখন কুরায়শগণ নানা প্রকার চেষ্টা চালালো মানুষকে তাঁর দাওয়াত থেকে বিমুখ করতে। তারা বলল, ইনি যাদুকর.. জ্যোতির্বিদ.. পাগল..। কিন্তু পরিণামে তারা দেখল তাঁর অনুসারীদের সংখ্যা কমে তো না; বরং দিন দিন বেড়েই চলছে। অতঃপর তারা ঐক্যমত হল, তাঁকে সম্পদ ও দুনিয়ার প্রাচুর্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবে। এ প্রস্তাব পেশ করার জন্য ‘হুছাইন বিন মনুযির আল খোযাঈ’ নামক জনৈক মুশরিককে তাঁর কাছে পাঠালো। সে ছিল মুশরিকদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি।

হুছাইন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে গিয়ে বলতে লাগল, হে মুহাম্মাদ! তুমি আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছো… আমাদের একতাকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছো.. তুমি আমাদের মাঝে ফেতনা সৃষ্টি করেছো… এটা করেছো.. ওটা করেছো..। তুমি যদি সম্পদ চাও তবে বল আমরা মাল-দৌলত একত্রিত করে তোমাকে আমাদের মাধ্যে সবচেয়ে বড় মালদার বানিয়ে দেই। যদি নারী চাও তবে সবচেয়ে সুন্দরী নারীর সাথে তোমার বিবাহের ব্যবস্থা করে দেই। যদি তুমি আমাদের বাদশাহ হতে চাও তবে তোমাকে আমাদের বাদশাহ্‌ বানিয়ে দেই। এভাবে সে নানারকম প্রলোভন মূলক কথা বলতে থাকল। আর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুনতে থাকলেন।

সে যখন কথা শেষ করল, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার কথা কি শেষ হে আবু ইমরান? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে তুমি আমার কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দাও। সে বলল, আপনি কি চান প্রশ্ন করুন?

তিনি বললেন: হে আবু ইমরান, তুমি কয়জন মা‘বূদের ইবাদত করে থাক?

হুছাইন বলল: সাতজন। ছয়জন পৃথিবীতে আর একজন উর্ধাকাশে।

তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তোমার সম্পদ যদি ধ্বংস হয়ে যায় তবে কার কাছে তা চাও?

সে বলল: যিনি আকাশে আছেন তার কাছে চাই।

নবীজি প্রশ্ন করলেন: যদি বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায় তবে?

হুছাইন জবাব দিল: যিনি উপরে আছেন তার কাছে বৃষ্টি চাই।

নবীজি বললেন: যদি তোমার সংসারে অভাব দেখা দেয় তবে কাকে আহ্বান কর?

সে বলল: যিনি আসমানে আছেন তাকে।

নবী পাক বললেন: তবে তিনিই একাই তোমার সব আহ্বানে সাড়া দেন? না কি তারা (বাকী ছয়জন) সবাই?

হুছাইন উত্তর দিল: তিনি একাই সব ধরণের ডাকে সাড়া দেন।

তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তিনি একাই তোমার আহ্বানে সাড়া দেন, একাই তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেন.. আর তুমি কৃতজ্ঞতা আদায়ের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করে থাক? নাকি তুমি ভয় কর যে ওরা (অন্য মাবূদগণ) তোমার ব্যাপারে তাঁকে (আল্লাহ্‌কে) পরাজিত করে দেবে।

হুছাইন বলল: না, তারা তা করার ক্ষমতা রাখে না।

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে হুছাইন! তুমি ইসলাম কবূল কর। আমি তোমাকে এমন কিছু কথা শিখিয়ে দিব যা দ্বারা আল্লাহ্‌ তোমার উপকার করবেন।.. (হাদীছটির মূল সুনান তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে হা/৩৪০৫)

0 comments:

Post a Comment