সান্দিড়া আশফাকুল ইসলাম খানকা শরীফ

তাসাউফ' বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি জ্ঞান যে জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়, আত্মাকে আলোকিত. ইসলামী শরিয়াতের দৃষ্টিকোন থেকে ইলমে তাসাওউফের গুরুত্ব অপরিসীম।তাসাওউফ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একে অস্বীকার করা যায়না।কারন তাসাওউফ ব্যাতিত মানবতার আধ্যাত্নিক উতকর্ষ সাধিত হতে পারে না।

Sandira Asfaqul Islam Khanka Sorif SANTAHER

তাসাউফ' বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি জ্ঞান যে জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়, আত্মাকে আলোকিত. ইসলামী শরিয়াতের দৃষ্টিকোন থেকে ইলমে তাসাওউফের গুরুত্ব অপরিসীম।তাসাওউফ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একে অস্বীকার করা যায়না।কারন তাসাওউফ ব্যাতিত মানবতার আধ্যাত্নিক উতকর্ষ সাধিত হতে পারে না।

সান্দিড়া আশফাকুল ইসলাম খানকা শরীফ

তাসাউফ' বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি জ্ঞান যে জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়, আত্মাকে আলোকিত. ইসলামী শরিয়াতের দৃষ্টিকোন থেকে ইলমে তাসাওউফের গুরুত্ব অপরিসীম।তাসাওউফ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একে অস্বীকার করা যায়না।কারন তাসাওউফ ব্যাতিত মানবতার আধ্যাত্নিক উতকর্ষ সাধিত হতে পারে না।

Sandira Asfaqul Islam Khanka Sorif SANTAHER

তাসাউফ' বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি জ্ঞান যে জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়, আত্মাকে আলোকিত. ইসলামী শরিয়াতের দৃষ্টিকোন থেকে ইলমে তাসাওউফের গুরুত্ব অপরিসীম।তাসাওউফ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একে অস্বীকার করা যায়না।কারন তাসাওউফ ব্যাতিত মানবতার আধ্যাত্নিক উতকর্ষ সাধিত হতে পারে না।

সান্দিড়া আশফাকুল ইসলাম খানকা শরীফ

তাসাউফ' বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি জ্ঞান যে জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়, আত্মাকে আলোকিত. ইসলামী শরিয়াতের দৃষ্টিকোন থেকে ইলমে তাসাওউফের গুরুত্ব অপরিসীম।তাসাওউফ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একে অস্বীকার করা যায়না।কারন তাসাওউফ ব্যাতিত মানবতার আধ্যাত্নিক উতকর্ষ সাধিত হতে পারে না।

Thursday, 31 July 2014

তাওবা

 আল্লাহ যে কাজে সন্তুষ্ট এমন সব কাজ কর্ম কর"ন। কেননা কোন মানুষই অপরাধ ও ত্র"টি মুক্ত নয়।
আর সমস্ত আদম সন্তানই ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছে। আর উত্তম ভুলকারী হল আল্লাহর কাছে
তওবাকারী আর মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনের মাধ্যমেএবং মহানবী 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম' হাদীসের মাধ্যমে গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন যে-

]قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَاسْتَقِيمُوا إِلَيْهِ وَاسْتَغْفِرُوهُ[ (فصلت: من الآية৬)

অর্থাৎ, হে রাসূল আপনি বলুন নিশ্চয় আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ আমার নিকট
প্রত্যাদেশ পাঠানো হয়। আর নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ এমন মাত্র। তোমরা তার পথেই স্থির ও সুদৃঢ়
থাক এবং তারই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর।

আল্লাহ আরো বলেন-

]وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ[ (النور: من الآية৩১)

অর্থাৎ হে মুমিনগণ তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর কাছে তওবা কর। আশা করা যায় তোমরা সফলকাম
হতে পারবে।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন-

]يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحاً عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ
تَحْتِهَا الْأَنْهَار[ (التحريم: من الآية৮)

অর্থাৎ ওহে যারা ঈমান এনেছ তোমরা তোমাদের রবের নিকটে একনিষ্ঠতার সাথে কবুলযোগ্য তওবা
কর। আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের থেকে সকল গুণাহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন
জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রাবাহিত হয়।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন-

]إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ[ (البقرة: من الآية২২২)

অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদেরকে ভালবাসেন এবং তিনি পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকেও
ভালবাসেন।

আম্মার বিন ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবী করীম 'সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম' বলেন যে, হে মানবজাতি তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা কর এবং আমি প্রতি
দিনে একশতবার তওবা করে থাকি। (মুসলিম)

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি রাসূল -কে বলতে
শুনেছি, তিনি বলেন যে, নিশ্চয় আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তার কাছে
দৈনিক সত্তরবারের বেশি তওবা করি। (বুখারী)

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূল 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্ল
াম' বলেছেন, আল্লাহ তার বান্দাহর তওবার কারণে খুব খুশি হন। যখন বান্দাহ তার কাছে তওবা করে
তখন বান্দাহ যে অবস্থায় থাকুক না কেন আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন।

আর আনাস এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় রাসূল 'সাল্লাল্লাহু
আলাইহি অসাল্লাম' বলেন যে, যদি আদম সন্তানের জন্য স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত উপত্যকাও
হয় তার পরেও তার কাছে দুটি স্বর্ণের উপত্যকা হওয়া ভাল মনে করবে। তারপরও তার মুখ কখনো পূর্ণ
হবেনা। তবে মাটি দ্বারা পূর্ণ হবে। আর আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক তওবাকারীকেই ক্ষমা করে দেন।
(বুখারী ও মুসলিম)

অতঃপর তওবা হল আল্লাহর অবাধ্যচারণ থেকে ফিরে গিয়ে আল্লাহর আনুগত্য পথের দিকে ধাবিত হওয়া।
কেননা আল্লাহ হলেন প্রকৃত ইবাদত পাবার যোগ্য। আর প্রকৃত ইবাদত হল মাবুদের জন্য তার
প্রেম, ভালবাসায় ও মহত্বের বিনয়ী হওয়া।

আর দ্র"ত তওবা করা আবশ্যক। বিলম্ব করা কোনক্রমেই বৈধ নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা এবং তার
রাসূল 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম' তওবা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আর তাই আল্লাহ ও
তাঁর রাসূলের সকল নির্দেশই দ্র"ত দ্র"ততার সাথে সাথে পালন করা উচিত। কেননা বান্দাহ জানেনা
যে, বিলম্বে কোন কাজ করলে তা কি অর্জন করা যাবে কি-না? কেননা হঠাৎ তার মৃত্যু এসে
পড়তে পারে। অতঃপর সে তওবা করার সুযোগ পাবে না। আর অন্যায় কাজ বারবার করার মাধ্যমে অন্তর
কঠিন হয়ে যায় এবং আল্লাহর হুকুম পালনে দূরত্বে অবস্থান করে। আর তার ঈমান দুর্বল হয়ে যায়।
কেননা ঈমান আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং অন্যায় করার মাধ্যমে ঈমান কমে যায়।
কেননা বারবার অপরাধ করার দ্বারা অপরাধ করার প্রতি মানসিকতা তৈরী হয়। আর যখন কোন আত্মা কোন
বস্তুর প্রতি সীমালংঘন করে ফেলে তখন তার থেকে পৃথক হওয়া কঠিন হয়ে যায়। এবং তখন তার উপর
শয়তান বিজয়ী হয়ে বসে। আর অন্যান্য বড়বড় অপরাধ করার প্রতি অনুপ্রেরণা যোগায়। এ
জন্যইতো ওলামায়ে কেরাম বলে থাকেন যে, নিশ্চয় সকল ধরনের অপরাধ কুফুরী বৃদ্ধি করে। ফলে মানুষ
ধাপে ধাপে একটি অপরাধ থেকে আরেকটি অপরাধে লিপ্ত হয়ে যায়। এমনকি সে দ্বীন থেকে দূরে সরে
চলে যায়।

তওবা কবুল হওয়ার শর্ত পাঁচটি

এক. তওবা একনিষ্ঠতার সাথে হওয়া চাই এবং আল্লাহর প্রতি ভালবাসা ও তার মহত্বের প্রতি সম্মান
প্রদর্শন করা এবং ঁতার কাছে কল্যাণের আশা করা এবং তাঁর শাস্তি থেকে ভয় পাওয়া। এ তওবা দ্বারা
পার্থিব কোন বস্তু কামনা অথবা কোন সৃষ্টজীবের কাছে কিছু প্রার্থনা না করা চাই। আর
যদি কেউ এমনটি করে তাহলে তার তওবা কবুল হবে না। কেননা সে অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তওবা করেছে।
সে আল্লাহর কাছে তওবা করেনি এবং সে একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে তওবা করেছে।

দুই. তার পূর্বকৃত গুণাহর জন্য লজ্জিত ও হীন হওয়া চাই এবং সে এই আশা করবে যে তার এই তওবা
কবুল না হলে সে কিছুই অর্জন করতে পারবে না। আর তার এই তওবা হবে আল্লাহর ডাকে সাড়া দেয়া
এবং তার কৃত অপরাধের শাস্তির ভয় স্মরণ করা। তাহলে তার তওবা হবে একান্ত বিশ্বাসের সাথে এবং
চাক্ষুষের সাথে।

তিন. অতি তাড়াতাড়ি গুণাহের কাজ থেকে দূরে সরে যাওয়া। কেননা নিষিদ্ধ কাজ দ্বারা যদি অপরাধ
হয়ে যায় তাহলে সে উহার মধ্যে ধাবিত হবে। আর তার অপরাধ যদি কোন আবশ্যকীয় কাজ বর্জনের
মাধ্যমে হয় তাহলে তা অবশ্যই সাথে সাথে করে নিবে। যতটুকু সম্ভব সাথে সাথে পূরণ করে নিবে।
যেমন যাকাত ও হজ্ব।

আর কোন ব্যক্তি বারবার কোন অপরাধ করার দ্বারা তওবা করায় কোন লাভ নেই। ধরা যাক, কেউ সুদ
খাওয়া থেকে তওবা করল অথচ সে সুদের কাজে কর্মে সর্বদা ব্যস্ত থাকে তাহলে তার এই ধরনের তওবা
করার দ্বারা কোন লাভ হবে না। বরং তার তওবা হবে হাসি-ঠাট্টা ও বিদ্র"প করার ন্যায়। বরং এর দ্বারা
সে আল্লাহ তার আয়াতসমূহের সাথে অবজ্ঞা আচরণ করল। এর দ্বারা তাকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে
সরিয়ে দিবে। আবার যদি কেউ তওবা করে যে, জামাতের সাথে নামায পড়া আর কখনো ত্যাগ করবে
না, অথচ সর্বদা সে জামাতে নামায ত্যাগ করে চলে, তাহলে তার এই তওবা করার দ্বারা কোন লাভ হবে
না।

আর যখন সৃষ্টজীবের অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যাপারে অপরাধ করে বসে তখন সৃষ্টজীবের
অধিকার আদায় না করা পর্যন্ত তার তওবা সঠিক হবে না। আর যখন কোন ব্যক্তি অন্যের সম্পদ
অন্যায়ভাবে হস্তগত করে অথবা কারো সম্পদ নিয়ে আবার অস্বীকার করে তাহলে উক্ত ব্যক্তির সম্পদ
ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত তওবা সঠিক হবে না। আর যদি ইতিমধ্যে উক্ত সম্পদের মালিক আরো
পায় তাহলে তার উত্তরাধিকারীদের কাছে ফিরিয়ে দিবে। আর যদি তার কোন উত্তরাধিকারী জীবিত না
থাকে তাহলে বাইতুল মালে আদায় করে দিবে। আর যদি এমন হয় যে, কোন ব্যক্তি এই হস্তগত স
ম্পদের মালিক তাহলে উক্ত সম্পদশীল ব্যক্তির নামে সাদকাহ করে দিবে।

আর যদি কোন মুসলিমকে গীবত করার দ্বারা অপরাধ ঘটে যায় তাহলে উক্ত গীবত থেকে মুক্ত থাকা
আবশ্যক হয়ে যায়। আর কোন অপরাধ বারবার করার পরও তওবা করা সঠিক হবে। কেননা আমল কোন কোন
সময় কম হয়ে থাকে। আর ঈমান (তাওবা) বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

চার. এ ধরনের সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয় যে, এই ধরনের অপরাধ ভবিষ্যতে আর কখনো করবে না। কেননা
ইহা তাওবার ফল এবং তওবাকারীর জন্য একটা সত্যতার দলিল। যদি কেউ বলে যে, নিশ্চয় সে তওবা করছে
এবং সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর কখনো করবে না অথবা তওবা করেছে এই নিয়তে যে সে বারবার
এই কাজ করবে আবার তওবা করবে তাহলে তার তওবা কবূলযোগ্য হবে না। কেননা তাহলে তার এই তওবা
হবে সাময়িক যা দ্বারা তার কোন প্রকার দ্বীন ও দুনিয়ার উপকার আসবে না।

পাঁচ. তওবা কবূলের সময় শেষ হবার পর আর কখনো গুণাহর কাজ করবে না। কেননা যদি তওবা কবূলের
সময় শেষ হবার পর আবারও উক্ত গুণাহ করে তবে তার তওবা কবূল করা হবে না। আর তওবা কবূলের সময় শেষ
হওয়া দু-ধরনের। একটি হলো ব্যাপকভাবে প্রত্যেকের জন্য। আর দ্বিতীয়টি হল প্রত্যেকটি ব্যক্তির
নিজস্বতার জন্য।

সাধারণভাবে : আর উহা হল পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয় হওয়া। আর পশ্চিম দিকে সূর্য যখন
উদিত হবে তখন আর তওবাহ করার দ্বারা কোন উপকার হবে না। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন যে,

]يَوْمَ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لا يَنْفَعُ نَفْساً إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي
إِيمَانِهَا خَيْراً[ (الأنعام: من الآية১৫৮)

অর্থাৎ, তখন আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকটি অন্তকরণে মোহর মেরে দিবেন এবং মানুষের আমল করার
সুযোগ শেষ হয়ে যাবে। নবী করমি 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম' আরো বলেন যে, যে ব্যক্তি
সূর্য পশ্চিম দিক উদয় হবার পূর্ব সময় পর্যন্ত তওবা করবে তার তওবা আল্লাহ কবুল করবেন।
(মুসলিম)

বিশেষভাবে : প্রত্যেকটি ব্যক্তির মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে। কেননা মৃত্যুর সময় হাযির হয়ে গেলে
তার আর তওবা কবুলের সময় থাকে না। ফলে তওবা করলেও কোন লাভ হবে না। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন
যে,

]وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآن [(النساء: من الآية১৮)

অর্থাৎ আর তাদের তওবা কোন কাজে আসবে না যারা খারাপ আমল করে যতক্ষণ না তাদের নিকট ম
ৃত্যু উপস্থিত হয়। আর মৃত্যু কালিন সময়ে বলে যে, আমি এখন তওবা করলাম।

আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন যে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, নিশ্চয়
আল্লাহ তাআলা বান্দাহর তওবা কবুল করে থাকেন যতক্ষণ না তার র"হ অবশিষ্ট থাকে। (তিরমিযী)

আর যখনই সব শর্তানুযায়ী তওবা করা হয় তখন তওবা কবূল করা হয় এবং আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা বড়
ধরনের অপরাধও ক্ষমা করে দিবেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন-

]قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعاً إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ
الرَّحِيمُ[ (الزمر:৫৩)

অর্থাৎ হে রাসূল আপনি বলে দিন যে, হে আমার বান্দাহরা যারা নিজেদের আত্মার উপর অত্যাচার
করেছ তোমরা কখনোই আল্লাহর রহমত হতে হতাশ হয়ে যেওনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সব গুণাহকে ক্ষমা
করে দিবেন। কেননা তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

এই আয়াতটি আল্লাহর দিকে সাড়াদানকারী ও তওবাকারী ব্যক্তিদেরকে মুসলিম বলে প্রমাণ করে।
যেমন মহান আল্লাহ বলেন-

]وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءاً أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُوراً رَحِيماً[ (النساء:১১০)

অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন খারাপ আমল করে অথবা নিজের প্রতি অত্যাচার করে এরপর ক্ষমা প্রার্থনা করে
না। এর পরেও সে আল্লাহকে অতিশয় ক্ষমাশীল ও দয়ালু হিসেবে পাবে।

অতএব, তোমরা অতি দ্র"ত তওবা কর। আল্লাহতাআলা তোমাদের উপর অনুগ্রহ করবেন এবং তোমাদের
মৃত্যু আসার পূর্ব পর্যন্ত তোমাদের প্রতি কবুলযোগ্য তওবার মাধ্যমে তোমাদেরকে অনুগ্রহ
করবেন। এ ছাড়া তোমরা গুনাহ মুক্ত হতে পারবে না।

হে আল্লাহ কবূলযোগ্য তওবা করার জন্য আমাদেরকে তাওফীক দাও। এমন তওবা যা দ্বারা আমাদের
পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়। আমাদের জন্য সব কাজকর্ম সহজ করে দাও। এবং কাজ কর্মে
কাঠিন্যতা দূর কর। হে আল্লাহ আমাদেরকে, আমাদের মাতাপিতাদেরকে এবং সব মুমিনকে ইহকালে
ও পরকালে ক্ষমা করে দাও।

وَصَلَّى اللهُ وَسَلَّمَ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَّآلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِيْنَ

ইলমে তাসাউফ , ইলমে মারেফাত



ইলমতাসাউফ , ইলমে মারেফাত
তাসাউফ' বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি জ্ঞান যে জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়, আত্মাকে আলোকিত করা যায়।
তাসাউফ' বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি জ্ঞান যে জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়, আত্মাকে আলোকিত
ইসলামী শরিয়াতের দৃষ্টিকোন থেকে ইলমে তাসাওউফের গুরুত্ব অপরিসীম।তাসাওউফ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একে অস্বীকার করা যায়না।কারন তাসাওউফ ব্যাতিত মানবতার আধ্যাত্নিক উতকর্ষ সাধিত হতে পারে না।প্রবিত্র কোরআন এবং হাদীসের মাধ্যমে রসুল (সা:)এই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।আমি নিন্মে ইলমে তাসাওউফের সংজ্ঞা,উতপত্তি ও প্রসারের ইতিহাস আলোচনা করলাম।
তাসাওউফ এর পরিচিতি।
তাসাওউফ শব্দ লিখতে তা-ছোয়াদ-ওয়াও এবং ফা শব্দ লাগে যার উচ্চারণ হল তাসাওউফ।এউ শব্দটি তাফা-উল এর মাসদার যার মূল অক্ষর হল ছোয়াদ-ওয়াও এবং ফা এর আভীধানিক অর্থ হল,সূফীবাদ,আধ্যাত্নবাদ,আধ্যাত্নিকতা।অর্থাত কলবের অপবিত্রতা থেকে প্রবিত্র থাকা।তবে তাসাওউফ শব্দটির মূল কি এই নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে।যেমন দায়েরাতুলমাআরেফাত গ্রন্থকার আল্লামা বুসতানী (র) বলেন :-তাসাওউফ শব্দটি আছছুফু শব্দথেকে নির্গত যার অর্থ হল-পশম,লোম wool ইত্যাদি ।আর তাদেরকে সূফী বলাহয় এই কারনে যে,তারা অহংকারী পোষাক তথা নিজের বরত্ব বিলিন করে আল্লাহর আদেশ পালনকারীর সব প্রচেস্টাই নিজেকে নিয়জিত রাখে।েআর তারা অহংকারী পোষাকের বিপকরত পোষাক পরিধান করে।মূলত তাদের জীবন আল্লাহর আদেশ এবং রসুল (স:)এর আদশ্যের উত্তম প্রকাশ।

করা যায়। সুফিবাদ বা সুফী দর্শন একটি ইসলামিক এমন  দর্শন যা আত্মা অবস্থা সম্পর্কিত আলোচনা মুখ্য বিষয়। আত্মার পরিশুদ্ধির বা তাজকিয়ায়ে নফস এর মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনই হলো এই দর্শনের মুলকথা। পরম সত্তা মহান আল্লাহ কে জানার এবং চেনার আকাঙ্খা মানুষের চিরন্তন। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আধ্যাতিক ধ্যান ও কোর্আন হাদীসের জ্ঞানের মাধ্যামে জানার প্রচেষ্টাকে হল সূফী দর্শন বা সূফীবাদ । হযরত ইমাম গাজ্জালী(রঃ) এর মতে, "আল্লাহর ব্যাতীত অপর মন্দ সবকিছু থেকে আত্মাকে কোর্আন হাদীসের আলোকে তাজকিয়ায়ে নফস এর মাধ্যমে প্রবিত্র করে সর্বদা আল্লাহর আরাধনায় নিমজ্জিত থাকা এবং সম্পূর্ন রূপে আল্লাহুতে নিমগ্ন হওয়ার নামই সূফী বাদ । "‘সুফ অর্থ পশম আর তাসাওউফের অর্থ পশমী বস্ত্রে পরিধানের অভ্যাস - অতঃপর কোর্আন হাদীসের জ্ঞানের মাধ্যামে  মরমীতত্ত্বের সাধনায় কাহারও জীবনকে নিয়োজিত করার কাজকে বলা হয় তাসাওউফ। যে নিজেকে এইরূপ সাধনায় সমর্পিত করেন ইসলামের পরিভাষায় তিনি সুফি নামে অভিহিত হন।’ ইসলামি পরিভাষায় সুফিবাদকে তাসাওউফ বলা হয়, যার অর্থ আধ্যাত্মিক তত্ত্বজ্ঞান। তাসাওউফ বা সুফিবাদ বলতে অবিনশ্বর আত্মার পরিশুদ্ধি বা তাজকিয়ায়ে নফস এর মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে সাধনাকে বুঝায়। আত্মার পবিত্রতার মাধ্যমে ফানাফির রাসুল তারপর ফানাফিল্লাহ আল্লাহর সঙ্গে অবস্থান করা এবং ফানাফিল্লাহর মাধ্যমে বাকাবিল্লাহ (আল্লাহর সঙ্গে স্থায়িভাবে বিলীন হয়ে যাওয়া) লাভ করা যায়। যেহেতু আল্লাহ নিরাকার, তাই তাঁর মধ্যে ফানা হওয়ার জন্য নিরাকার শক্তির প্রতি প্রেমই একমাত্র মাধ্যম। তাসাওউফ দর্শন অনুযায়ী এই সাধনাকে আমরা‘তরিকত’ বা আল্লাহ-প্রাপ্তির পথ বলা হয়। তরিকত সাধনায় একজন পথপ্রদর্শকের প্রয়োজন হয়।এই পথের স্তর হলো ফানা ফিশ্‌শাইখ, ফানা ফিররাসুল ও ফানাফিল্লাহ। ফানাফিল্লাহ হওয়ার পর বাকাবিল্লাহ লাভ হয়। বাকাবিল্লাহ অর্জিত হলে একজন সুফি আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ নিয়ামত লাভ করেন আর এই অবস্থাই সুফির অন্তরে সার্বক্ষণিক শান্তি ও আনন্দ বিরাজ করে। হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) স্বয়ং এই দর্শনের প্রবর্তক। তিনি বলেন, মানবদেহে একটি বিশেষ অঙ্গ আছে, যা সুস্থ থাকলে সমগ্র দেহ পরিশুদ্ধ থাকে, আর অসুস্থ থাকলে সমগ্র দেহ অপরিশুদ্ধ হয়ে যায়। জেনে রাখো এটি হলো কল্‌ব বা হূদয়। আল্লাহর জিকর বা স্মরণে কল্‌ব কলুষমুক্ত হয়। সার্বক্ষণিক আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে কল্‌বকে কলুষমুক্ত করে আল্লাহর প্রেমার্জন সুফিবাদের উদ্দেশ্য তবে এই জিকির জাগতিক সকল কাজে আল্লাহক আদেশ নিষেধ মানার মাধ্যমে অর্জন হয়। যাঁরা তাঁর প্রেমার্জন করেছেন, তাঁদের তরিকা বা পথ অনুসরণ করে ফানাফিল্লাহর মাধ্যমে বাকাবিল্লাহ অর্জন করাই হলো সুফিদর্শন। চারটি প্রধান তরিকা সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করে:যেমনঃ-

 ১)হযরত বড় পীর  আব্দুল কাদির জিলানী (রঃ) প্রতিষ্ঠিত কাদেরিয়া তরিকা,   ২)হযরত সুলতানুল হিন্দ  খাজা মু’ঈনুদ্দীন চিশতি (রঃ) প্রতিষ্ঠিত চিশতিয়া তরিকা,
 ৩)হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দী (রঃ) প্রতিষ্ঠিত নকশবন্দিয়া তরিকা এবং ৪)হযরত শেখ আহমদ মুজাদ্দিদ-ই-আলফে ছানী সারহিন্দী (রঃ) প্রতিষ্ঠিত মুজাদ্দিদিয়া তরিকা।
 এছাড়া আরও ৩০০টির বেশি তরিকার সম্পর্কে জানা যায় য়েনন সুহ্‌রাওয়ার্দিয়া, মাদারীয়া, আহমদিয়া ও কলন্দরিয়া ইত্যাদি।

আল্লাহ্‌ভীতি

আল্লাহ্‌ভীতি

ফকীহ হযরত আবুল লাইস (রহ) বলেছেন, “কারও হৃদয় প্রকৃতই আল্লাহ্‌র ভয়ে ভীত কিনা তা সাতটি নিদর্শন বা আলামতের প্রতি লক্ষ্য করলে বুঝা যাবে। এগুলো কারও চাল-চলন, কথাবার্তা, ভাব-ভঙ্গি ও জীবনধারায় দৃষ্ট হলে বুঝা যাবে, তাঁর মনে আল্লাহ্‌ ভীতি পরহেজগারি সুসংহত হয়েছে। সেই লক্ষণগুলো হল –

১। এ লক্ষণটি জবানের সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ তার জবান মিথ্যা, বানোয়াট, গীবত, চোগলখোরি, অপবাদ, অপ্রীতিকর কথাবার্তা ও অহেতুক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকবে এবং সর্বদা আল্লাহ্‌র স্মরণ, কোরআন তিলাওয়াত ও ইলমে দ্বীনের চর্চায় নিজেকে নিমগ্ন রাখবে।

২। এ আলামত হৃদয়ের সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ অপরের প্রতি শত্রুতা পোষণ করা, বিনা দোষে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং হিংসা বিদ্বেষ, ঘৃণা প্রভৃতি সংক্রামক ব্যাধি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত পবিত্র থাকবে। হাদিস শরীফে আছে –

“হিংসা বিদ্বেষ নেক আমলসমূহ এমনভাবে গ্রাস করে, যেমন আগুন কাঠ জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দেয়”

৩। এ আলামতটি মানুষের চক্ষুর সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, পরহেজগার ব্যক্তি আল্লাহ্‌র ভয়ে ভীত থেকে তাঁর দৃষ্টিকে হারাম খাদ্য, নিষিদ্ধ পানীয় বস্তু, হারাম লেবাস পোশাক থেকে দূরে রাখবে এবং পার্থিব বস্তুসমূহের প্রতি কখনও লোলুপ দৃষ্টি দিবে না; বরং আল্লাহ্‌র অনুপম সৃষ্টি ও কুদরতের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তা থেকে শিক্ষা লাভ করবে। হারাম ও নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি কখনও দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন –

“যে ব্যক্তি স্বীয় চক্ষুকে হারাম জিনিসের প্রতি দৃষ্টিপাত দ্বারা পরিতৃপ্ত করবে, কেয়ামত দিবসে আল্লাহ্‌ পাক সে চক্ষুকে জাহান্নামের অগ্নি দ্বারা পূর্ণ করবেন”

৪। এ আলামত উদরের সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ আল্লাহ্‌র ভয়ে ভীত ব্যক্তি তাঁর উদরকে অবৈধ পথে উপার্জিত রুজি থেকে রক্ষা করবে। কারণ অবৈধ পথে উপার্জিত রিজিক আহার করা মহাপাপ। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন –

“যখন আদম সন্তানের পেটে হারাম খাদ্যের কোন লোকমা পড়ে, তখন ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের সকল ফেরেশতা তাঁর উপর অভিসম্পাত করতে থাকে, যে পর্যন্ত এ লোকমা তার উদরে মওজুদ থাকে। আর উক্ত লোকমা উদরে নিয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হলে তাঁর ঠিকানা হয় জাহান্নাম”

৫। এ লক্ষণ হাতের সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ যে ব্যক্তি পরহেজগার, সে কখনও স্বীয় হস্ত হারাম বস্তুর দিকে প্রসারিত করবে না; বরং সাধ্যানুযায়ী সর্বদা স্বীয় হস্তকে আল্লাহ্‌র নাফরমানীমূলক কাজ থেকে বিরত রেখে তাঁর দাসত্ব ও আনুগত্যের কাজে ব্যবহার করবে।

৬। এ আলামত পদযুগলের সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র ভয়ে ভীত, তাঁর পদযুগল আল্লাহ্‌র নাফরমানী ও অবাধ্যতার কাজে ব্যবহার হবে না; বরং সদা আল্লাহ্‌র আনুগত্য ও সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহৃত হবে এবং আল্লাহ্‌র প্রিয় বান্দাদের দিকে ধাবিত হবে।

৭। এ আলামত ইবাদত ও রিয়াযত সম্পর্কিত। অর্থাৎ মুত্তাকী ব্যক্তি খালেস নেক নিয়তে শুধু আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য তাঁর নাফরমানীমুলক যাবতীয় কার্য পরিহার করে একমাত্র তাঁর ইবাদত বন্দেগী ও সাধনা পরিশ্রমে নিমগ্ন থাকবে। মূলতঃ মানুষের উচিত এসব সাধনা ও ইবাদতের মূলে একমাত্র স্রষ্টা আল্লাহ্‌র রেযা বা সন্তুষ্টিকেই সম্মুখে রাখা। এতে কোন প্রকার রিয়া বা লোক দেখানো মনোবৃত্তি ও কপটতাকে স্থান না দেয়া। এ বিষয়ে সফলতা লাভ করতে পারলে সে সেসব মহান ভাগ্যবান লোকের দলভুক্ত হবে, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ্‌ তালা এরশাদ করেছেন –

“মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে তোমার রবের নিকট পরকালের কল্যাণ” – সূরা যুখরুফ; ৩৫

আরও এরশাদ করেছেন –

“মুত্তাকীরা থাকবে ঝর্না-বহুল বেহেশতে” – সূরা হিজর; ৪৫
“মুত্তাকীরা থাকবে বেহেশতে ও ভোগ বিলাসে” – সূরা তূর; ১৭
“মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে” – সূরা দুখান; ৫২

- [ ইমাম গাজ্জালী (র:) (মরণের আগে ও পরে) ]