সান্দিড়া আশফাকুল ইসলাম খানকা শরীফ

তাসাউফ' বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি জ্ঞান যে জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়, আত্মাকে আলোকিত. ইসলামী শরিয়াতের দৃষ্টিকোন থেকে ইলমে তাসাওউফের গুরুত্ব অপরিসীম।তাসাওউফ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একে অস্বীকার করা যায়না।কারন তাসাওউফ ব্যাতিত মানবতার আধ্যাত্নিক উতকর্ষ সাধিত হতে পারে না।

Sandira Asfaqul Islam Khanka Sorif SANTAHER

তাসাউফ' বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি জ্ঞান যে জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়, আত্মাকে আলোকিত. ইসলামী শরিয়াতের দৃষ্টিকোন থেকে ইলমে তাসাওউফের গুরুত্ব অপরিসীম।তাসাওউফ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একে অস্বীকার করা যায়না।কারন তাসাওউফ ব্যাতিত মানবতার আধ্যাত্নিক উতকর্ষ সাধিত হতে পারে না।

সান্দিড়া আশফাকুল ইসলাম খানকা শরীফ

তাসাউফ' বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি জ্ঞান যে জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়, আত্মাকে আলোকিত. ইসলামী শরিয়াতের দৃষ্টিকোন থেকে ইলমে তাসাওউফের গুরুত্ব অপরিসীম।তাসাওউফ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একে অস্বীকার করা যায়না।কারন তাসাওউফ ব্যাতিত মানবতার আধ্যাত্নিক উতকর্ষ সাধিত হতে পারে না।

Sandira Asfaqul Islam Khanka Sorif SANTAHER

তাসাউফ' বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি জ্ঞান যে জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়, আত্মাকে আলোকিত. ইসলামী শরিয়াতের দৃষ্টিকোন থেকে ইলমে তাসাওউফের গুরুত্ব অপরিসীম।তাসাওউফ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একে অস্বীকার করা যায়না।কারন তাসাওউফ ব্যাতিত মানবতার আধ্যাত্নিক উতকর্ষ সাধিত হতে পারে না।

সান্দিড়া আশফাকুল ইসলাম খানকা শরীফ

তাসাউফ' বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান হচ্ছে এমন একটি জ্ঞান যে জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহকে চেনা যায়, আল্লাহকে পাওয়া যায়, আত্মাকে আলোকিত. ইসলামী শরিয়াতের দৃষ্টিকোন থেকে ইলমে তাসাওউফের গুরুত্ব অপরিসীম।তাসাওউফ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একে অস্বীকার করা যায়না।কারন তাসাওউফ ব্যাতিত মানবতার আধ্যাত্নিক উতকর্ষ সাধিত হতে পারে না।

Sunday, 31 August 2014

আল্লাহ হলো আমার অনাবিল শান্তির ঠিকানা।

আল্লাহ হলো আমার অনাবিল শান্তির ঠিকানা।





জীবনের একটি সময় ছিল যা একাকিত্বে আমাকে কুড়ে কুড়ে খেয়েছে।
আমি শান্তির জন্য অনন্ত দিগন্তের হন্য হয়ে খুজেছি ।
এই জগত লালসা লোভ আর স্বর্থপরতার আবরনে অষ্টোপাসে র্বাধা্
ভাল লাগা হয়তো নিস্বার্থ হবে কিন্তু ভালবাসা হবে কি?
ভাল মানুষ যে নেই তা আমি বিস্বাস করিনা।
তেমনি তাদের পাওযা যাবে বিশ্বাস এর ঠিকানা ।
সত্যই আমি নিজেকে গড়ে তুললাম ,
বুঝলাম আমাকে শুধু দিয়ে যেতে হবে,
আর ত্যাগ করতে হবে সকল চাওয়া।
সকল কিছুই যথ
ন উপেক্ষা করতে শিখলাম,
যখন শধু ভালবেশে গেলাম আশা নেয় কেউ আমাকে ভাল বাসুক।
ত্যগেই যে শুখ ত্যগেই শুখ এই অনাবিল সত্য এটি জান্নাতের ঠিকানা।
আমার আর একাকিত্ব নেই ,যেহুতু জগতের করো কাছে নেই কেন পাওনা।
আল্লাহ হলো আমার প্রিয়োবন্ধু ,আর এটা এক অনাবিল শান্তির ঠিকানা।
 


মাওাঃ মোঃ আসলাম হোসেন মুফাসসির সান্দিড়া দরবার শরিফ । 

Monday, 4 August 2014

প্রকৃত আলেম

اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا [٦٥:١٢]
আল্লাহ সপ্তাকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও সেই পরিমাণে, এসবের মধ্যে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং সবকিছু তাঁর গোচরীভূত।


যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান এবং রসূলের দিকে এস, তখন তারা বলে, আমাদের জন্যে তাই যথেষ্ট, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে পেয়েছি। যদি তাদের বাপ দাদারা কোন জ্ঞান না রাখে এবং হেদায়েত প্রাপ্ত না হয় তবুও কি তারা তাই করবে? (৫: ১০৪)

আলেম শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক। শাব্দিক অর্থ হচ্ছে জান্তা, জ্ঞানী ইত্যাদি। সাধারণত আমরা মাদ্রাসায় পড়ুয়াদেরকে আলেম বলে অভিহিত করি। এঁদের মধ্যে যাঁরা বা যিনি ইলমে ছরফ, নাহু, ফিকাহ, হাদিস কিংবা তাফসীর শাস্ত্রে অধিক পান্ডিত্যের অধিকারী, আমরা তাঁকে বা তাঁদেরকে বড় আলেম বলে মান্য করে থাকি। আবার তাঁদের মধ্য হতে লম্বা কোর্তা পরিহিত শ্মশ্রু মন্ডিত এবং উষ্ণীশধারীদেরকে আমরা আলেমে বাআমল হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকি এবং তাঁদেরকে প্রকৃত আলেম হিসেবে গণ্য করে শ্রদ্ধার চোখে দেখি। আসলে কি ব্যাপারটা এরূপ? আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) এর দৃষ্টিতে প্রকৃত আলেম কি এমন? এ সম্পর্কে কিঞ্চিত আলোচনা করার পূর্বে ইলেম সম্পর্কে জানতে হবে। ইলম শব্দের অর্থ হচ্ছে জানা, অবহিত হওয়া। কিন্তু কেবল জানা আর অবহিত হওয়ার নাম ইলেম নয়। বরং ইলম হচ্ছে আল্লাহ্ প্রদত্ত মুমীনের অন্তরে প্রতিস্থাপিত একটি জ্যোতি, যা নাকি নবুয়াতের জ্যোর্তিমালা থেকে আহরিত এবং মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাণী, কাজ এবং তাঁর প্রশংসিত অবস্থাসমূহ হতে চয়নকৃত। যে জ্যোতি দ্বারা মুমীন মহান আল্লাহ্ তাআলার জাত, সীফাত ইত্যাদির প্রতি আকৃষ্ট হন এবং সে পথে পরিচালিত হন।

তা’হলে বুঝা যাচ্ছে, আল্লাহ্র নূরে নূরান্বিত অন্তরাত্মার অধিকারী মুমীনই হচ্ছে প্রকৃত আলেম। আর যে হৃদয় আল্লাহ্র নূরে আলোকিত, সে হৃদয় আল্লাহ্র প্রেমে সিক্ত এবং আল্লাহ্র ভয়ে ভীত সম্ভ্রস্ত। সুতরাং সে মুমীন ব্যক্তিই প্রকৃত আলেম, যে গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহ্কে ভয় করে, আল্লাহ্র পছন্দনীয় বিষয় গ্রহণ করে এবং আল্লাহ্র অপছন্দনীয় বিষয়কে সে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করে। ইলেম অনুয়ায়ী যাঁরা আমল করেন, তাঁদেরকেই বলা হয় প্রকৃত আলেম। প্রকৃত আলেমের পরিচয় নিম্নোক্ত হাদীসটিতে বিধৃত হয়েছে। হাদীসটি এরূপ :

হযরত সুফিয়ান ছাওরী (রহ.) হতে বর্ণিত যে, একদা হযরত ওমর (রাঃ) আকাবিরে তাবেয়ীনদের অন্যতম হযরত কাবেআহবার (রাহ.) কে জিজ্ঞেস করলেন- সাহেবে ইলম বা প্রকৃত আলেম কাঁরা? প্রত্যুত্তরে হযরত কা’ব (রাহ.) বললেন- সাহেবে ইলেম বা প্রকৃত আলেম তাঁরা যাঁরা স্ব-স্ব উপার্জিত ইলম অনুযায়ী আমলও করেন। পুনরায় হযরত ওমর (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন- কোন বস্ত্ত আলেমদের অন্তর হতে ইলম (ইলমের আলো-বরকত) কে বের করে দেয়? উত্তরে হযরত কা’ব বললেন- (পার্থিব) লোভ-লালসা (আলেমদের অন্তর হতে) ইলমকে বের করে দিয়।

(দারামী)- মিশকাত।

ইলমের আলো ও বরকত এর বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে মুহাদ্দিসীনরা বলেছেন যে আল্লাহ্ ভীতি, আখিরাতের প্রস্ত্ততি ও জাতির হেদায়াতের চিন্তা-ফিকিরে মগ্ন থাকা হচ্ছে আলো ও বরকত। অন্তরে যখন দুনিয়ার প্রতি লোভ লালসা সৃষ্টি হয়, তখন অন্তরে আর ইলমের ঐ নূর ও বরকত বাকী থাকেনা। অন্তর হয়ে পড়ে তিমিরাচ্ছন্ন। কেননা অন্তরে লোভ-লালসা আর কামনা বাসনা সৃষ্টি হলে নানা প্রকার পার্থিব বিলাস সামগ্রী ও আর্থিক জৌলুস লাভ করতে সে মরিয়া হয়ে উঠে। ধন-সম্পদের মোহে সে ইলমকে লাঞ্ছনার অন্ধকূপে নিপতিত করে দেয়। দুনিয়াদার ফাসেক ফুজ্জারের মন জয় করতে সারাক্ষণ ব্যতিব্যস্ত থাকে। পদ মার্যাদার লোভে সে তাঁর স্বকীয়াতা ভুলে যায়। তার মধ্যে ‘রিয়া’ আর’সুমআ’র ভূত চেপে বসে। কারণ তার অন্তরতো আলো শূন্য। যুগের শ্রেষ্ঠ নামী-দামী আলেম হলেও তাকে বা তাদেরকে প্রকৃত আলেম বলা চলেনা। এ’ সম্পর্কে হযরত যাননুন মিসরীর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন-

‘‘আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের দেখেছি, যখন তাঁরা ইলমের মধ্যে বেড়ে যেতেন (অর্থাৎ বড় আলেম হতেন), দুনিয়ার প্রতি তাঁরা ছিলেন উদাসীন। এর প্রতি তাঁদের উদাস মনোভাব বেড়ে যেত। পার্থিব উপায় উপকরণ এবং চাকচিক্যের প্রতি মোহ হ্রাস পেত। কিন্তু আজকাল দেখছি, কোন ব্যক্তি ইলমের মধ্যে যে পরিমাণ বাড়তে থাকে, ঠিক সে পরিমাণ পার্থিব জৌলুসের প্রতিও অধিক অনুরক্ত হয়ে পড়ে। সম্পদ-সম্পত্তির আধিক্যের প্রত্যাশায় মোহগ্রস্থ হয়ে পড়ে। এ’ভাবে সে বড় আলেমও বনে যায়। কিন্তু তার অন্তরে ইলমের সামান্যতম আলোও অবশিষ্ট থাকেনা।

একটু চিন্তা করলে প্রতিয়মান হয় যে, আজকের এ’সময়ের কিছুকিছু বড় আলেমের দাপাদাপি সর্বত্রই বিরাজমান। গাড়ি-বাড়ি এপার্টমেন্ট, বিলাস-বহুল যান্ত্রিক সরঞ্জামাদি জোগাড়ে সারাক্ষণ পেরেশান থাকেন। স্বী সন্তান-সন্ততিদেরকে বিজাতীয় মডেলে গড়ে তুলতে তাঁরা থাকে সদা তৎপর। তাঁরা বিভিন্ন মাহফিলের মধ্যমণিরূপে আসীন হয়ে থাকেন। মাহফিল শেষে মোটা অংকের হাদীয়া তোহফা নিয়ে গাড়ি হাঁকিয়ে দেন উড়াল। হাদিয়ার টাকা একটু কম হলে সে-কি তুলকালাম কান্ডইনা ঘটিয়ে থাকে। প্রকৃত আলেমদের সম্পর্কে আল্লাহ্র রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেন:

হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ্র রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেছেন- এ’ উম্মাতের আলেমরা দু’শ্রেণীতে বিভক্ত। প্রথম শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত হচ্ছেন সে আলেম যাকে আল্লাহ্ তাআলা ইলম দান করেছেন, আর সে তাঁর ইলম জনগণের মধ্যে ব্যয় করেছেন, লোভ-লালসার বশীভূত হয়ে মানুষের নিকট থেকে কোনরূপ বিনিময় গ্রহণ করেননি কিংবা তা বিক্রয়ও করেননি। সেই আলেমের জন্য জল ভাগের মৎস্যস্থল, স্থালভাগের সকল প্রাণী এবং মহাশূন্যে উড়ন্ত পক্ষীকুল তাঁর জন্য আল্লাহ্র দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর দ্বিতীয় শ্রেণীভূক্ত আলেম হচ্ছে, যাকে আল্লাহ ইলম দান করেছেন, কিন্তু সে আল্লাহ্র বান্দাদের সাথে (তার ইলম খরচ করার ব্যাপারে) কৃপণতা করেছে, লোভ-লালসার বশবর্তী হয়ে (ইলম খরচ করে কিংবা ইলম শিক্ষা দিয়ে) বিনিময় গ্রহণ করেছে এবং মূল্যের বিনিময়ে বিক্রয় করেছে। (তার শাস্তি হলো) কিয়ামত দিবসে তাকে আগুনের লাগাম দেয়া হবে এবং একজন আহবানকারী শব্দ করতে (বলতে) থাকবেন যে, ‘‘এ ব্যক্তি হচ্ছে ঐ আলেম, যাকে আল্লাহ্ তাআলা ইলম দান করেছিলেন কিন্তু সে আল্লাহ্র বান্দাহদের সাথে (ইলমের ব্যাপারে) কৃপণতা করেছে, লোভের তাড়নায় বিনিময় গ্রহণ করেছে এবং মূল্যের বিনিময়ে ইলম বিক্রয় করেছে।’’ আর এ’ভাবে হাশর ময়দানের বিচার কাজ সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত শব্দ করতে থাকবে।- তিবরানী।

উদ্ধৃত হাদীসের আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রথমোক্ত আলেমেরা হচ্ছেন সঠিক এবং প্রকৃত আলেম। বর্তমান সময়ে এ রকম সংখ্যা খুবই নগণ্য। এমনি কিন্তু সিরাতে- সুরাতে, আচারে-অনুষ্ঠানে সবাই তো আলেম। প্রকৃত আলেম বেছে নেয়া সত্যি মুশকিল। এ ক্ষেত্রে আল্লাহ্র রাসূলের হাদীস, বুযুর্গানে দ্বীন ও সালফে সালেহীনের মূল্যবান বাণীর আলোকে চিন্তা-গবেষণা করে আমাদেরকে প্রকৃত আলেমের পরিচয় জেনে নিতে হবে। আজকের এই সময়ের মেকী আলেম ও লোক দেখানো আবেদদের সম্পর্কে আল্লাহ্র রাসূল (সাঃ) এর একটি হাদীস তরীকায়ে মোহাম্মাদিয়া গ্রন্থে হযরত আনাস (রাঃ) এর বাচন ভঙ্গিতে এ’ভাবে উদ্ধৃত হয়েছে, হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, হুজুর (দঃ) ইরশাদ করেছেন যে, শেষ যামানায় (কিছু সংখ্যক) মূর্খ ইবাদতকারী এবং ফাসেক আলেম বের হবে।

এ সম্পর্কে হযরত মুজাদ্দেদ আলফে সানী মাকতুবাত গ্রন্থে লিখেছেন যে, জনৈক বুযুর্গ ব্যক্তি একবার অভিশপ্ত ইবলিসকে দেখতে পায় যে, সে একেবারে খোশ মেজাজে ও বেকার হয়ে বসে আছে। ঐ বুযুর্গ ব্যক্তি ইবলিসকে তার এহেন বেকার বসে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে প্রত্যুত্তরে সে বলে যে, বর্তমান সময়ের আলেম সমাজ আমাদের কাজ সমাধা করছে, জনগণকে পথভ্রষ্ট করার জন্য তারাই যথেষ্ট।

তিনি তার মাকতুবাত গ্রন্থে আরো লিখেছেন যে, মন্দ আলেমরা হচ্ছেন দ্বীনের জন্য ডাকাত স্বরূপ। তাদের উদ্দেশ্য পার্থিব মর্যাদার প্রতি আসক্তি এবং নেতৃত্বর প্রতি লোভ। তারা জনগণের সামনে নিজেদেরকে জাহির করতে ভালবাসে।

উপরোক্ত বক্তব্যের প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করে চিন্তা গবেষণা করলে প্রকৃত আলেমের পরিচয় জানতে খুব একটা কষ্ট হয়না। যাঁরা প্রকৃত আলেম, তাঁদের মর্যাদা মহান আল্লাহ্র দরবারে অতি উচ্চে। তাঁদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ তাআলা ঘোষণা করেছেন,

‘‘ইন্নামা ইয়াখশাল্লাহা মিন ইবাদিহিল উলামাউ’’

অর্থ : ‘আল্লাহ্র বান্দাহদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে’’ – সূরা ফাতির-২৮

এখানে ‘ওলামা’ বলতে এমন লোকদেরকে বুঝানো হয়েছে, যাঁরা মহান আল্লাহ্র সত্তা ও গুণাবলী সম্পর্কে সম্যক ভাবে অবগত এবং বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টিকুল, তার আবর্তন-বিবর্তন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করেন। সৃষ্টি বৈচিত্র্য সম্পর্কে, দিবা-রাতের হ্রাস বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা করেন। কেবল নাহু-ছরফ, ফিকাহ, অলংকার শাস্ত্র কিংবা বিশুদ্ধ আরবী ফার্সী জানা ব্যক্তিদেরকে এখানে ওলামা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

মোট কথা আল্লাহ্র পছন্দনীয় বস্ত্তকে যাঁরা ভালবাসেন, আল্লাহ্র অপছন্দনীয় বস্ত্তকে যাঁরা বর্জন করেন, শিরক, বিদায়াত, রিয়া, খোদপছন্দী হতে যারা নিজেদেরকে দূরে রাখেন, তাঁরাই হচ্ছেন প্রকৃত আলেম। যার মধ্যে আল্লাহ্র ভয় নেই, হালাল-হারামের তারতম্য নেই, শত আরবী জানলেও কোরানের পরিভাষায় তাকে আলেম বলা হয়নি।

প্রকৃত ইলেম হচ্ছে যা কলবকে নূরান্বিত করে। যে ইলম দ্বারা কলব প্রদীপ্ত হয়না তা’ প্রকৃত ইলেম হতে পারেনা। এ সম্পর্কে হযরত হাছান বসরী (রাঃ) বলেন, ইলেম দু’প্রকার। একটি হচ্ছে যা কলব তথা অন্তর জগতে প্রোথিত। আর এ ইলমই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দানকারী। দ্বিতীয়টি হচ্ছে যা মানুষের জবানের মধ্যে প্রদেয়। আর এটাই হচ্ছে আদম সন্তানের উপর দলীল। (এটার উপর মহান আল্লাহ তাআলা অভিযোগ উপস্থাপন করে বলবেন, আমি তোমাকে ইলম দান করেছিলাম, তদনুযায়ী তুমি আমল করনি কেন?) মিশকাত। এ হাদীসের আলোকে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, যে ইলম অন্তরকে নূরান্বিত করে, তাই প্রকৃত ইলেম। আর যাঁরা এরূপ ইলমের অধিকারী তাঁরাই হচ্ছেন প্রকৃত আলেম এবং তাঁরাই হচ্ছেন হযরত আম্বিয়া (আঃ) এর উত্তরাধিকারী।

হযরত শেখ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রাহ.) বলেছেন, উহাই কল্যাণমূলক ইলম, যা অন্তর্জগতে তার আলো বিস্তার করে এবং উহার দ্বারা অন্তরের আবরণসমূহ বিদূরীত হয়। আর কল্যাণমূলক ইলম দু’প্রকার। এক, ইলমে মুয়ামালা, যা আমলের কারণ হয়। দুই, ইলমে ‘মুকাশাফা’ যা হচ্ছে আমলের ফল এবং নিদর্শন। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা করেন তাঁদের মধ্যে এ আলোক রশ্মি প্রদীপ্ত করে দেন। আর মৌখিক ইলম হচ্ছে যার কোন তা’ছীর নেই।

মোল্লা আলী কারী বলেন যে, ইলমে নাফে বা কল্যাণমূলক ইলেম হচ্ছে ইলমে ‘বাতেন’ আর ‘ইলমুল আলাল-লিছান’’ বা মৌখিক ইলম হচ্ছে ইলমে জাহির। কিন্তু বাহ্যিক বা ইলমে জাহিরের বিশুদ্ধতা ব্যতীত ইলমে বাতেন লাভ করা মুশকিল। অনুরূপ ভাবে ‘বাতিন’ এর ইসলাহ ব্যতীত ইলমে জাহির ও পরিপূর্ণ ভাবে লাভ করা অসম্ভব। একটা আরেকটার পরিপূরক। আর এ জন্যই ইমাম মালেক (রাহ.) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ফিকাহ শাস্ত্রের ইলম হাসিল করেছেন কিন্তু তাসাওফ হাসিল করেননি, তিনি হচ্ছেন ‘ফাসেক’। আর যে ব্যক্তি কেবল তাসাওফ বিদ্যা লাভ করেছে, কিন্তু ফিকাহ শাস্ত্রের বিদ্যা অর্জন করেনি, সে হচ্ছে যিন্দিক। আর যে ব্যক্তি উভয় প্রকার (ফিকাহ ও তাসাওফ) ইলেম উপার্জন করেছেন, তিনি হচ্ছেন মুহাক্কিক বা পরিপূর্ণ ও প্রকৃত আলেম।

আবু তালিব মাক্কী বলেছেন, ‘‘ইলমে জাহির ও ইলমে বাতিন উভয়টাই হচ্ছে প্রকৃত ইলম। একটা আরেকটা হতে পৃথক নয়। যেমনি ভাবে ঈমান আর ইসলাম পরস্পর এরূপ সম্পৃক্ত, যে রূপ দেহ আর কলব সম্পৃক্ত।

মোট কথা জাহেরী ইলম হচ্ছে দুধের মতো, আর বাতেনী ইলম হচ্ছে ননীর মতো। দুধ ছাড়া যেমনি ভাবে ‘ননী’ কল্পনা করা যায় না, তেমনি ভাবে জাহেরী ইলম ছাড়া বাতেনী ইসলাহও অকল্পনীয়। আজকের এ সময়ে যা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে, তা কেবল সুরত আর পোশাকের মধ্যেই প্রায় সীমিত। ইলমে জাহেরে পান্ডিত্য অর্জনকারী দেখা গেলেও তাদের অন্তরাত্মা আল্লাহভীতি শূন্য ও লোভ-লালসায় পরিপূর্ণ বলেই মনে হয়। অথচ এ’হেন ব্যক্তিরাই নিজেদেরকে বড় আলেম বলে জাহির করে। আমরাও তাদেরকে আলেম হিসেবে মান্য করি।

লেখক : প্রঃ মিল্লাত লাইব্রেরী, লাঙ্গলকোর্ট বাজার, কুমিল্লা। মোবা: ০১৮১২-৮৭৭৬৩৫

একটি ঘটনা হাসান সনদে ইমাম বাইহাক্বী বর্ণনা

একটি ঘটনা

হাসান সনদে ইমাম বাইহাক্বী বর্ণনা করেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মানুষের মাঝে তাওহীদের দা‘ওয়াত নিয়ে আত্মপ্রকাশ করলেন, তখন কুরায়শগণ নানা প্রকার চেষ্টা চালালো মানুষকে তাঁর দাওয়াত থেকে বিমুখ করতে। তারা বলল, ইনি যাদুকর.. জ্যোতির্বিদ.. পাগল..। কিন্তু পরিণামে তারা দেখল তাঁর অনুসারীদের সংখ্যা কমে তো না; বরং দিন দিন বেড়েই চলছে। অতঃপর তারা ঐক্যমত হল, তাঁকে সম্পদ ও দুনিয়ার প্রাচুর্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবে। এ প্রস্তাব পেশ করার জন্য ‘হুছাইন বিন মনুযির আল খোযাঈ’ নামক জনৈক মুশরিককে তাঁর কাছে পাঠালো। সে ছিল মুশরিকদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি।

হুছাইন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে গিয়ে বলতে লাগল, হে মুহাম্মাদ! তুমি আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছো… আমাদের একতাকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছো.. তুমি আমাদের মাঝে ফেতনা সৃষ্টি করেছো… এটা করেছো.. ওটা করেছো..। তুমি যদি সম্পদ চাও তবে বল আমরা মাল-দৌলত একত্রিত করে তোমাকে আমাদের মাধ্যে সবচেয়ে বড় মালদার বানিয়ে দেই। যদি নারী চাও তবে সবচেয়ে সুন্দরী নারীর সাথে তোমার বিবাহের ব্যবস্থা করে দেই। যদি তুমি আমাদের বাদশাহ হতে চাও তবে তোমাকে আমাদের বাদশাহ্‌ বানিয়ে দেই। এভাবে সে নানারকম প্রলোভন মূলক কথা বলতে থাকল। আর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুনতে থাকলেন।

সে যখন কথা শেষ করল, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার কথা কি শেষ হে আবু ইমরান? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে তুমি আমার কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দাও। সে বলল, আপনি কি চান প্রশ্ন করুন?

তিনি বললেন: হে আবু ইমরান, তুমি কয়জন মা‘বূদের ইবাদত করে থাক?

হুছাইন বলল: সাতজন। ছয়জন পৃথিবীতে আর একজন উর্ধাকাশে।

তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তোমার সম্পদ যদি ধ্বংস হয়ে যায় তবে কার কাছে তা চাও?

সে বলল: যিনি আকাশে আছেন তার কাছে চাই।

নবীজি প্রশ্ন করলেন: যদি বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায় তবে?

হুছাইন জবাব দিল: যিনি উপরে আছেন তার কাছে বৃষ্টি চাই।

নবীজি বললেন: যদি তোমার সংসারে অভাব দেখা দেয় তবে কাকে আহ্বান কর?

সে বলল: যিনি আসমানে আছেন তাকে।

নবী পাক বললেন: তবে তিনিই একাই তোমার সব আহ্বানে সাড়া দেন? না কি তারা (বাকী ছয়জন) সবাই?

হুছাইন উত্তর দিল: তিনি একাই সব ধরণের ডাকে সাড়া দেন।

তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তিনি একাই তোমার আহ্বানে সাড়া দেন, একাই তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেন.. আর তুমি কৃতজ্ঞতা আদায়ের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করে থাক? নাকি তুমি ভয় কর যে ওরা (অন্য মাবূদগণ) তোমার ব্যাপারে তাঁকে (আল্লাহ্‌কে) পরাজিত করে দেবে।

হুছাইন বলল: না, তারা তা করার ক্ষমতা রাখে না।

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে হুছাইন! তুমি ইসলাম কবূল কর। আমি তোমাকে এমন কিছু কথা শিখিয়ে দিব যা দ্বারা আল্লাহ্‌ তোমার উপকার করবেন।.. (হাদীছটির মূল সুনান তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে হা/৩৪০৫)

ফুরফুরা শরীফের সিলসিলা

ফুরফুরা শরীফের সিলসিলার প্রতিষ্ঠাতা হযরত শাহ্‌ সুফি মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) শুধুমাত্র একজন ধর্মোপদেশকারীই ছিলেন না তিনি যুগের একজন ধর্ম সংস্কারক এবং মোজাদ্দেদ জামান ছিলেন। তিনি ঐ উপাধিতেই বেশী সমাদৃত ছিলেন।
মোজাদ্দেদ জামান আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) ১৮৪৫ সালে ফুরফুরা শরীফে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি সামাজিক অপরাধগুলো দূরীকরণের লক্ষে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং অসংখ্য সামাজিক কাজকর্মে জড়িত ছিলেন। তিনি অনেক দাতব্য প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন। তিনি একজন মহান শিক্ষাবিদ ছিলেন, যিনি কিনা উপলব্ধি করেছিলেন যে একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই তিনি এই সমাজ ব্যবস্থার ক্ষতিকর দিকগুলো দূর করতে পারবেন এবং একারনেই তিনি অনেক মাদ্রাসা, স্কুল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ফুরফুরা শরীফে সুবিধা বঞ্চিত ছাত্রদের জন্য তিনি বিনা মূল্যে বোর্ডিং সুবিধা দিয়ে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করার জন্য ফুরফুরা শরীফে মেয়েদেও জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি সব সময় বলতেন যে- একজন লেখকের কলম শহীদের চেয়েও উত্তম। তাই তিনি অনেক ইসলামিক পত্রিকা এবং খবর পত্রিকা-কে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
এগুলোর মধ্যে একটি সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা হচ্ছে- মুসলিম হিতৌষী। তিনি একজন দেশপ্রেমিক এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের সহিত জড়িত ছিলেন। সু-পন্ডিত এবং সর্বদা সহিষ্ণু আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) সাহেবের সমগ্র পশ্চিম বঙ্গ, আসাম, বিহার ও বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) জুড়ে অসংখ্য মুরীদ ও ভক্ত ছিল। তাঁহার অনুসারী ও ভক্তগণ শুধুমাত্র মুসলিম ধর্মেরই ছিলেন না বরং বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মের লোকেরা তাঁহার ভক্ত ছিলেন। তাঁহার কার্যক্রম বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও বুদ্ধিজীবি কর্তৃক প্রসংশিত ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার দূর্বান থেকে প্রকাশিত দি মুসলিম ডাইজেষ্ট এ আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) কে- “Illustrious, religious leader- fearless, god intoxicated and selfless as a preacher, he would never attack other religions and endeared himself to people from other communities and castes” ১৯৩৯ সনের ১৭ই মার্চ তিনি তাঁহার পাঁচ পুত্র রেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন, যাহার প্রত্যেকেই ইসলামী ধর্ম তত্ত্ব বিষয়ে পান্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন।
Mazaar Sharif At Furfura Sharif
Mazaar Sharif At Furfura Sharif
নায়েবে মুজাদ্দেদ পীরে কামেল কাইউম-এ-জামান আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রহঃ) ছিলেন তাঁহার বড় পুত্র। তিনি ধর্মীয় সম্মেলন এবং সেমিনারে অংশগ্রহন করতেন। ধর্মীয় ওয়াজ এর সাথে তিনি সামাজিক কাজ কর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং অনেক সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁহার প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা নেদায়ে ইসলাম এখনও প্রকাশিত হচ্ছে।
মোজাদ্দেদ জামান এর দ্বিতীয় পুত্র হচ্ছেন
নায়েবে মুজাদ্দেদ পীরে কামেল মুফতি-ই-আজম আবু জফর সিদ্দিকী (রহঃ), যিনি একজন ইসলামিক পান্ডিত্বের অধিকারী এবং ঐ সময়ের প্রসিদ্ধ লেখক ছিলেন। তিনি ইসলামিক শরীয়া এবং ব্যবহার তত্ত্ব/আইন বিজ্ঞানের উপর শতাধিক বই লিখেছেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সেবা মূলক কাজে উৎসাহিত করতেন
, যেমন মুজাদ্দেদ মিশনের উপদেষ্টা ছিলেন যেটি ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠীত এবং অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসার পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
নায়েবে মুজাদ্দেদ পীরে কামেল মুজাহিদত-ই-মিল্লাত আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (রহঃ) সাহেব হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) এর তৃতীয় পুত্র। ভক্ত ও মুরীদগণ ধর্মীয় বিভিন্ন সমস্যার আক্ষরিক সমাধান পাওয়ার জন্য উনার বাসায় জড়ো হতেন এবং উনি সমস্যার সমাধান করে দিতেন। তিনি খুবই নম্র ও ভদ্র ছিলেন। অপরের দুঃখ দেখতে পারতেন না। তিনি গরীব এবং পদ-দলিত মানুষকে অনেক সাহায্য সহযোগীতা করেছেন। তিনি মাত্র ৩১ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
মোজাদ্দেদ জামান হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ)- এর চতুর্থ পুত্র হচ্ছেন
নায়েবে মুজাদ্দেদ পীরে কামেল সুলতানুল আরেফিন আবু নজম মোহাম্মদ নাজমুস সায়াদাত সিদ্দিকী (রহঃ)। ইসলামিক শিক্ষা অর্জনের পর তিনি মোরাকাবার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক চর্চা শুরু করেন। জিকির, জেয়ারত ইত্যাদি। এভাবে তিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞানের পান্ডিত্য অর্জন করেন। মানুষ তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতার জ্ঞান অর্জনের জন্য উনার নিকট জড়ো হতেন। তিনিও অনেক সামাজিক কাজ ও সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি মোজাদ্দেদ পত্রিকা ও মোজাদ্দেদ মিশন নামে একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, যাহা কিনা এখন ও চলছে। হযরত নাজমুস সায়াদাত সিদ্দিকী (রহঃ) নতুন প্রজন্মকে ইংরেজী ভাষাজ্ঞান শিক্ষা উপর গুরুত্ত্ব দিয়েছেন।
নায়েবে মুজাদ্দেদ পীরে কামেল সুলতানুল ওয়ায়েজীন জুলফিকার আলী সিদ্দিকী (রহঃ) হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ)- এর সর্ব কনিষ্ট পুত্র ছিলেন। তাঁর বাগ্মিতা ছিল অসাধারণ। তিনি প্রকাশ্য বক্তৃতা ও ভাষা জ্ঞানের মাধ্যমে প্যারসদেও সম্মোহিত করেছিলেন। তিনিও অবিশ্রান্ত ভাবে বাংলা, আসাম ও বাংলাদেশের সামাজিক উন্নতি এবং ধর্মীয় কারনে বিভিন্ন সম্মেলন, সেমিনারে অংশ গ্রহন করতেন।
২৭ শে অক্টোবর ২০০২ ইং তারিখে মুজাদ্দেদেজামান আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) এর মধ্যম পুত্রের এন্তেকালের সাথে সাথে একটি প্রজন্মের পরিসমাপ্তি ঘটে। কিন্তু হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ)- এর মিশন এখনও তাঁহার পৌত্ররা এবং উৎসর্গীত মুরিদগণ চালু রেখেছেন। তিনি একটি বাৎসরিক ঈসালে সাওয়াব কায়েম করেন, যাহা কিনা এখনও বাংলা ফাল্গুন মাসের ২১,২২ ও ২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় (ইং আনুমানিক ৫,৬,৭ মার্চ)। প্রতি বছর তাঁর পৌত্ররা এই বাৎসরিক অনুষ্ঠান করে থাকেন এবং এই কাজ বংশানুক্রমে চালু থাকবে, ইনশালস্নাহ্‌ ।
প্রিয় নবী রাহমাতুলিস্নল আলামিন নবীকুলের শিরোমনি হুযুর করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম- এর প্রকৃত নায়েব বা প্রতিনিধি হিসেবে অসাধারণ বেলায়েতী শক্তি ও খোদায়ী জ্যেতির্দ্বীপ্ত ক্ষমতায় বিভিন্ন অব্যর্থ পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে বাতিলের তামাশাকে অপসারিত করে যাঁরা সফলতার উচ্চাসনে সমাসীন হয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর হাবীব (সাঃ)- এর শাশ্বত ও নিরুপম আদর্শকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করতঃ দ্বীন ইসলামের নিষ্কলুষ আধ্যাত্নিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মুর্শিদে বরহাক রাহনুমায়ী তারিকত ওয়াশরিয়াত, গওছে জামান, সুলতানুল আরেফিন, আজন্ম ওলিয়ে কামেল, আলেমে হাক্কানী পীরে রাব্বানী মাওলানা শাহ্‌ সুফি মোহাম্মদ নাজমুস সায়াদাত সিদ্দিকী হযরত ন’হুজুর পীর কেবলা (রহঃ)- অন্যতম। মানবতার অগ্রপথিক, আদর্শ শিক্ষানুরাগী হিসেবে দীর্ঘ দিনের শূন্যতাকে পূরণ করতে এ অঞ্চলের দিকহারা মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দিতে একটি যথোপযুক্ত সময়ে এদেশের স্বধীনতার পূর্বকালে সুদূর ভারতের ফুরফুরা শরীফ থেকে আধ্যাত্নিক জগতের প্রাণ পুরুষ এর বাংলাদেশে সুভাগমন ঘটে। শুরু হয় তরিকতের, শরীয়তের ও মারেফেতের প্রানোচ্ছল স্রোতধারা। এতদ্বঞ্চলের হাক্কানী তরীকত অনুসন্ধানী মানুষ হুজুর কেবলা (রহঃ)- এর সান্নিধ্যে এসে ক্রমান্বয়ে কাদেরীয়া কাদেরীয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দীয়া ও মোজাদ্দেদীয়া তরিকার বায়াত গ্রহন রতে থাকে।
মুসলমানদের দ্বীনি শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহনের সুযোগ করে দিতে হুজুর কেবলা (রহঃ) তাঁর ভক্ত মুরিদানদের সহযোগীতায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ন্যায় বাংলাদেশও গড়ে তোলেন অসংখ্য মাদ্রাসা ও খানকা শরীফ। মানবতার অগ্রপথিক আদর্শ শিক্ষানুরাগী এবং মুন্সিয়াত তথা দ্বীনি সমাজ ব্যবস্থার এই সফল সংগঠকের কার্যক্রমকে বাংলাদেশের সর্বত্র পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে অসংখ্য পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে।
হযরত ন’হুজুর কেবলা (রহঃ) ২২শে পৌষ ১৩৮৮, ৭ই জানুয়ারী ১৯৮২, ১১ই রবিউল আউয়াল ১৪০২, বৃহস্পতিবার দুপুর ২-৩০ মিনিটে ৬৯ বৎসর বয়সে ইন্তেকালের পর সিলসিলার মহান খিদমতের গুরুদায়িত্ব হিসাবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন- একমাত্র সাহেবজাদা মোজাদ্দেদ সুলতানজাদা হুজরাতুল আলস্নামা মোহাম্মদ সেবগাতুল্লাহ্‌ সিদ্দিকী (মাদ্দাজিল্লাহুল আলী)।
বর্তমান ছোট সাহেবজাদা (দামা ইকবালুহু) তাঁর মূল্যবান নসিহত রাখেন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্যে- হিংসা, অহঙ্কার ও নাজায়েজ স্বার্থ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে। সৎ চরিত্র ও সৎ ব্যবহার হলো ইসলামের ভিত্তি। আদব ও ভালবাসা হলো ইলমে তাসাউফের পূর্বশর্ত। হযরত দাদা হুযুর মোজাদ্দেদে জামান হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) এবং হযরত ন’হুজুর কেবলা (রহঃ)-এর পথ নিসৃত দ্বীনি খেদমতের ক্রমধারার উত্তোরনে ন’হুজুরের একমাত্র বর্তমান সাহেবজাদা সমগ্র বাংলাদেশ ব্যাপি ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করেন। সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক ইসলাম প্রয়োগ ও আহলে সুন্নাত জামাতের সত্যিকার আদর্শ ও নীতি ভিত্তিক শিক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর জন্যে ১৯৯৭ ইং সালে পাবনা সদরে সমাজকল্যানমূলক প্রতিষ্ঠান মোজাদ্দেদীয়া সায়াদাত মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ মিশন বাংলার জমিনে অসংখ্য ভূমিকা রাখে।

ফুরফুরার ইতিহাস

ফুরফুরার ইতিহাস

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”

ফুরফুরা শরীফের ইতিহাস

হুগলী জেলার অন্তর্গত ফুরফুরা শরীফ অতি প্রাচীণ এবং প্রসিদ্ধ দরবার।

যখন ফুরফুরা শরীফের পীর সাহেব কিবলা (রহমতুলস্নাহি তাআলা আলাইহি)’র পূর্বপুরম্নষ হজরত মাওলানা মনসুর বাগদাদী (রহমতুলস্নাহি তাআলা আলাইহি) সেনাপতি হজরত শাহ হোসেন বোখারী (রহমতুলস্নাহি তাআলা আলাইহি) সহ বঙ্গদেশে আগমন করেন, তখন ফুরফুরা শরীফ এবং তার আশপাশের গ্রামগুলো বলিয়া-বাসন্তী নামে পরিচিত ছিল।

৭৯৬ হিজরীতে সুলতান গিয়াস-উদ্দিন ভাগীরথী নদীর তীর নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা নেন। সৈন্য পাঠান বাংলার ছোট ছোট সামন্তôবাদী এলাকায়, জমিদারিতে। সেনা বাহিনীর সাথে সাথে বিদগ্ধ আলেমরাও আগমন করেছিলেন।

এমনি এক অভিযানে হজরত শাহ সূফী সুলতান (রহ·) সেনাবাহিনী সহ আগমন করেন বঙ্গ দেশের দিকে। হজরত সূফী সুলতান (রহ·) সৈন্যদের দু ভাগ করলেন। নিজে একদল নিয়ে এগিয়ে গেলেন পান্ডু অভিমুখে, অন্য দলটা হজরত শাহ হোসেন বোখারি (রহ·)’র নেতৃত্বে বলিয়া-বাসন্তôী’র দিকে এগিয়ে আসে।

এখানেই ফুরফুরা শরীফের গোড়াপত্তন। আলস্নাহ রাব্বুল ইজ্জাত যুগে যুগে স্থানে স্থানে পাঠিয়ে থাকেন নায়েবে রাসূল (সালস্নালস্নাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসালস্নাম), পাঠিয়ে থাকেন ইসলামে নবযুগ দানকারীদের। ম্রিয়মাণ সুন্নাত, ইসলামী মৌলিক আচার-আচরণে ভাটা পড়লে আবির্ভাব হয় মুহ্‌ইউস্‌ সুন্নাহ্‌’ দের।

তেমনিভাবে ফুরফুরা শরীফেও আদর্শ ধার্মিক পুরম্নষ, মৌলিক তাসাউউফের অণ্বেষী, সুন্নাতের পুুনর্জীবনদানকারী, আ’রিফে রব্বানী, তবিরে জিসমানী, আমিরম্নশ্‌ শারইয়াত ওয়াত তারিক্বাত, মুজাদ্দিদ ই জামান, কুত্‌ব ই দাওরা, হাদীয়ে মিলস্নাত ওয়াদ্দীন, হুজ্জাতুল ইসলামকে প্রেরণ করলেন। তিনি বংশগত দিক দিয়ে ইসলামের প্রথম খলিফা, খলিফাতুর রাসূল, আসহাবে আজম, হজরত আবু বকর সিদ্দিকী রাদ্বিআলস্নাহু তাআলা আনহুর সরাসরি নাস্‌ল ই পাক এ। তার পবিত্র নাম, হজরত আবু বকর সিদ্দিকী আল কোরারণী রহমতুলস্নাহি তাআলা আলাইহি।

ফুরফুরা নাম হবার কারণ

মাওলানা শামসুল ওলামা গোলাম সালমানি (রহ·) বলেন, ফরাহ্‌ শব্দ থেকে উৎপত্তি ফুরফুরা শব্দটার। ফরাহ্‌- পূর্ণ আনন্ত। কেউ কেউ বলেন, ফার্রে ফারাহ্‌ থেকে শব্দটার উৎপত্তি, অর্থ- জাঁকজমকময় আনন্দ। তৃতীয় মত, ফরফরা থেকে শব্দের উৎপত্তি। ফরফরা অর্থ দ্রম্নত। এ অঞ্চলে দ্রম্নত ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়ে। তিন অর্থেরই পূর্ণতা দান করলেন মুজাদ্দিদ ই জামান হজরত দাদা হুজুর কিবলা। তাঁর শুভাগমনের জন্যই যেন এ নামের উৎপত্তি হয়েছিল, যা সব অর্থেই মিলে যায়।

এখানেই কাছাকাছি দাফন করা হয় ইসলামের চার ওলি। গঞ্জে শোহাদা’য় শুয়ে আছেন তারা। দিলস্নীর বাদশাহ আদেশ জারী করেন, তাদের জন্য জায়গীরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ নিষ্ড়্গর জমি আয়মা, এবং যাদের জন্য দেয়া হয়, তাদের আয়মাদার বলা হত। এখনো হজরতে ফুরফুরা শরীফ, বেল পাড়া মহলস্না, রমপাড়া, আকুনি, বাধপুর, কোতবপুর, সীতাপুর, গাজীপুর, সূফি জঙ্গল সহ অনেক স্থানে আরামাদারগণ বসত করছেন। হজরত শাহ সৈয়দ হোসেন বোখারী (রহ·) প্রথমদিকে সৈন্যসহ সুফী জঙ্গলে অবস্থান করেন। তাদেরই স্মৃতিতে সূফী জঙ্গলের নামকরণ।

হজরত শাহ সৈয়দ হোসেন বোখারি (রহ·)’র মাজার শরীফ ফুরফুরা শরীফের পশ্চিম প্রান্তেô বেলপাড়া মহালস্নায় প্রাচীর-বেষ্টিত অবস্থায় এখনো দেখা পাওয়া যায়।

পূণ্যভূমি ফুরফু্‌রায় অসংখ্য ওলি, গাউস, কুতুব, আবদাল, মাওলানা, মৌলভি ও আলিমে দ্বীন-সূফি সাধকের মাজার শরীফ আছে।

দরবার শরীফ ও ইসালে সওয়াব এর ফজিলত

দরবার শরীফ ও ইসালে সওয়াব এর ফজিলত

রবিবার, জুন ২৭, ২০১০ উলিল আমার মুজাদ্দেদ জামান (রঃ)
দরবার শরীফ ও ইসালে সওয়াব
এর ফজিলত
মুজাদ্দেদ জামানের (রঃ) দক্ষিণ হস্ত
মওলানা রুহুল আমিন (রঃ) ও মুজাদ্দেদ
জামানের অন্যান্য জীবন চরিত্র হইতে যৎ কিঞ্চিত সংকলন
নায়েবে মুজাদ্দেদ পাঁচলাখতে জেগার হুজুর কেবলা গণের (রঃ)
ফয়েজ ও বরকতের উদ্দেশ্য
প্রকাশকঃ পীরজাদা জিয়াউদ্দীন সিদ্দিকী,পীরজাদা আম্মার উদ্দিন সিদ্দিকী
ফুরফুরা দরবার শরিফ
হাদিয়া- ৫
উলিল আমার মুজাদ্দেদ জামান (রঃ) ও
তাঁর দরবার শরিফ ইসালে সওয়াব
এর ফজিলত
ফুরফুরা শরিফের ইসালে সওয়াব ও দরবার শরিফ মুজাদ্দেদ জামান (রঃ) বাংলা ১৩০৭ সালে ২১/২২/২৩ শে ফাল্‌গুন প্রথম স্থাপন করে।
তিনি লড়্গ লড়্গ ভক্তবৃন্দকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ছয় থাম বিশিষ্ট দরবার শরীফে বসিয়া উক্ত তিনদিন সকাল সন্ধ্যায় তরিকত (আধ্যাত্মিক) শিড়্গা দীড়্গা দিতেন। আজও ঐ পবিত্র দরবার শরীফ ও ইসালে সওয়াব অপরিবর্তিত অবস্থায় বিদ্যমান।
তিনি অসিয়াত করিয়াছেন যে, “ আমার বাড়ীতে দেশী বিদেশী সকলকে আম দাওয়াত” এই মজলিস বেহেস্তেôওে বাগান যাঁহারা আসিবেন তাঁহারা আমার মেহমান।
ঐরম্নপ চার, ছয় বা আট থাম বিশিষ্ট ছাদ আঁটা দরবার বা ইসালে সওয়াব ভবিষ্যতে দেখিয়া যান সবটায় মুজাদ্দেদ জামান (রঃ) এর প্রতিষ্ঠিত দরবার ও ইসালে সওয়াব মনে করিবেন না।
আজ লড়্গ লড়্গ ধর্মপ্রাণ মানুষ হজরতের আমদাওয়াতে সাড়া দিয়া আদব সহকাওে তাঁর দরবার শরীফের মেহমান হইবার জন্য ২১/২২/২৩ শে ফাল্‌গুন তাঁর বাটীতে আসেন ও দাদাজী (রঃ) এর রওজা মুবারক জিয়ারত করতঃ ও বরকত হাসিল করিয়া রম্নহানীতরাক্কি লাভ করেন। চিরাচরিত মত মাইক বিহিন শান্তô পরিবেশে দরবার শরীফকে কেন্দ্র করিয়া দাদাজী (রহঃ) এর ওসিল· দিয়া সকাল-সন্ধ্যায় মুরাকাবায় বসিয়া তরবার এবং নসবতে জামেয়ার ফায়েজ লইয়া থাকেন। সমস্তô রাত জাগিয়া মুরাকাবা করেন, গোনাহ মাফের জন্য কাঁদিয়া থাকেন। ওয়াজ নসিহত শুনিয়া থাকেন। তাসাউফ শিড়্গার সবক বুঝিয়া নেন। অনেক জটিল মসলার মিমাংসা ও স্বপ্নের তাবির দরবার হইতে জানিয়া থাকেন। হজরত কেবলাগণ ও প্রতি বৎসর ঐ তিন দিন উক্ত দরবার শরীফ হইতে মুজাদ্দেদ জামান (রহঃ) এর ওসিলা দিয়া সকলকে মুরাকাবায় বসাইয়া আসিতেছেন।
সাবধান ! সিলসিলাভুক্ত কোন মুরিদ বা ভক্ত দাদাজী (রহঃ)এর ইসালে সওয়াবের গুরম্নত্ব দিয়া সেলসেলার ভক্ত মুরিদ দাবী করতঃ উলিল আমর মুজাদ্দেদ জামান (রহঃ) এর নিম্নে অসিয়াত খেলাফ করিয়া মুনাফেক হইবেন না। ইহাতে খোদ মুজাদ্দেদ জামান (রহঃ) এর এহানতের আশঙ্কা থাকায় ঈমান যাইবার খাওফ আছে । পীর লড়্গ লড়্গ জন্মাইবে কিন্তু তাহাদিগকে ও মুজাদ্দেদ উলিল আমরের ফরমাবারদারী ও নীতি মানিয়া চলিতে হইবে। এবার তাঁহার মূল্যবান অসিয়াতটি শুনুন, ১৩৩৬ সন বাং ২৬নং অসিয়াতে লেখা আছে “ধামার বাড়ীতে বৎসরের মধ্যে ২১/২২/২৩শে ফাল্‌গুন তারিখ নির্দ্ধারণ করিয়া একটি ওয়াজের মজলিস করি, আমপার বাড়ীতে দেশ বিদেশের সকলকে আম দাওয়াত দিয়া (থাকি)” তারপর মুজাদ্দেদ জামান বলিতেছেন- “এই মাহফিলে যাহাতে আলস্নাহ কায়েম রাখেন তার চেষ্টা আমার পুত্রগণ খলিফাগণম মুরিদগণ করিবেন।” কিন্তô তিনি মুরিদদিগকে বলিতেছেন, “খলিফাদের মধ্যে যদি কাহার বাড়ীতে এনরূপে মহফেল করিতে শক্তি হয় তবে তিনি করিবেন।”
হজরত খাজা বাকি বিলস্নাহ (রঃ) নিজ খলিফা মুজাদ্দেদ আল ফেসানী (রঃ) সম্বন্ধে লিখিয়াছেন। সাবধান! তোমরা কেহ আমার খলিফা শায়েখ সির হিন্দ মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রঃ)- র উপরে আমার ফজিলত বেশী ধারণা করিও না। ইহাতে মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রঃ) এর এহানতের (অবমাননা) আশংকা থাকায় তোমাদের ঈমান নষ্টের খাওফ আছে। কারণ মুজাদ্দেদগণ সূর্যেøর ন্যায় এবং সে তুলনায় পীর আওলিয়াগণ নত্রের মত।
নাউজুবিলস্নাহ বংশধর, খলিফা ও মুরিদ পীরদাদাজীর (রঃ) মতে বিরুদ্ধাচারণ করিয়া, এক একজন এক একদল তৈয়ার করিয়া সাধারণ মুসলমান ভাইদিগকে গোমরাহ করুক, এক একটি পীর মুরিদীর সতন্ত্র দল গজাইয়া উঠুক তাঁর উক্ত সারিত অসিয়াত মত দরবার ও ইসালে সাওয়াব ছাড়া পুত্রগণ, খলিফাগণ, মুরিদগণ, দ্বারা একটি পীর সাহেবের এক একটি নতুন নতুন ইসালে সওয়াব কায়েম হইলে, বা হইতে থাকিলে এই গরহিত কাজ তিনি জীবিত থাকিলে কি সহ্য করিতেন? বা বংশধর ও ভক্তবৃন্দগণ ইহা করিতে কি সাহস পাইতেন?
তিনি ছিলেন, এক মতাদর্শের লোক ভক্তদের মধ্যে একতা ও এক মতাদর্শ রার জন্যই দরবার শরীফ ও ইসালে সাওয়াব স্থাপন একটি তার মূল উদ্দেশ্য ছিল, এবং এ ব্যাপারে একটি পৃথক জনকল্যাণমূলক অসিয়াত বা দলিল এই মর্মে তিনি করিয়া যান, যে, ভবিষ্যতে ইসালে সওয়াবে পবিত্র দরবারে তাঁর নিজ হাতে রাখা কাঠের বাে (হাঁদিয়া, ইসালে সাওয়াব মাদ্রাসা, খয়রাত) দান করা অর্থে বংশধর কখনও কোনরম্নপ দাবী করিতে পারিবে না। উলিল আমর মুজাদ্দেদ জামান (রঃ এর ২৩শে মাঘ১৩৪৩ বাংলা সারিত দলিলটি হজরত ন’হুজুর পীর কেবলা (রঃ) এর নামে ছিল। বলা বাহুল্য অসিয়াত মত তিনি জেম্মদারী নিষ্ঠার সহিত পালন করিয়াছেন। বর্তমানে আমাদের নিকট উহা রতি আছে।
উলিল আমর মুজাদ্দেদ জামান (রঃ) এর বহুমুখি প্রতিষ্ঠান জড়িত ইসালে সওয়াবের সহিত দলিল বিহীন অর্থ ও স্বার্থ জড়িত আর সব দরবার ও ইসালে সওয়াবের তুলনা করা মূর্খতা ছাড়া আর কি। হাদীস শরীফে আছে নবী (দঃ) বলেন, আমার সাহাবারা (রাদিঃ) যদি আলস্নাহ রাস্তায় একটি জবের দানা খয়রাত করে আর অন্য লোকেরা যদি ওহোদ পাহাড় পরিমাণ সোনা খয়রাত করে তাঁহাদের জবের দানার সমতুল্য হইবে না, ইহার একমাত্র কারণ তাঁহাদের ফজিলত ও নিঃস্বার্থ কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়।পুত্রগণ, খলিফাগণ ও মুরিদগণ দ্বারা ভবিষ্যতে পৃথক পৃথক প্রত্যেক পীর সাহেবের একটি করিয় দরবার ও ইসালে সওয়াব কায়েম হইলে ও হইতে থাকিলে কত যে ইসালে সাওয়াব ও দরবার জন্ম গ্রহণ করিবে তাহা আজ কালের ব্যবসায়ী বাতেল পীর ফকীরদের দরবারে অবস্থা দেখিলে, সহজেই বুঝিতে পারি।ইহাতে মুজাদ্দেদ জামান (রহঃ) এর অসিয়াত ও মূখ্য উদ্দেশ্যের এহানত করা হইবে তাহাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নাই। তাই তাঁর সুযোগ্য পাঁচ পুত্র হুজুর কেবলাগণ ছিলেন এ ব্যাপারে সচেতন আমাদের জন্য আদর্শ পীর। তাঁহাদিগকে কোনদিন তাঁহাদের আব্বাজানের অর্থাৎ দাদাজী (রহঃ) এর কায়েম করা প্রতিষ্ঠান ও ইসালে সাওয়াব ২১, ২২, ২৩ শে ফাল্‌গুন ছাড়া অন্য কোন ইসালে সাওয়াব প্রতিষ্ঠান কায়েম করিতে ও চাঁদা তুলিতে বা ভক্তবৃন্দকে তাঁহাদের আব্বাজানের আম দাওয়াতের উপর দাওয়াত দিতে চাল, ডাল, গরম্ন, ছাগল, অর্থাদি গ্রাম-গঞ্জ হইতে আনিতে বলিয়া উক্ত ইসালে সাওয়াবের উপর কোনরকম মহফেল আয়োজন করিতে বা উক্ত পবিত্র তিনদিন পৃথক খানা পাক করিয়া খাওয়াইতে কশ্চিন কালেও দেখিতে পাওয়া যায় নাই। অসিয়তটির বিরম্নদ্ধাচারণ করিতে হুজুর কেবলাগণও পারেন নাই। কেননা এমন গরহিত গস্নানিকর কাজ করা বা মুরিদকে করিতে বলা তাঁহাদের দ্বারা সম্্‌ভব ছিল না। কারণ তাঁহারা জানিতেন ইহাতে তাঁহাদের আব্বাজানের(রঃ) জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের মাদ্রাসা, দরবারের কোআনিয়া মাদ্রাসা বডিং, ভক্তবৃন্দদের একতার কেন্দ্র বিন্দু ছয় থাম বিশিষ্ট দরবার শরীফের ইসালে সওয়াব, এসবের চরম তি সাধন করা হবে।এক একজনের একেক দল তৈয়ার হইবে। পীর বংশে আমার উপরে আরও দুইজন বয়োজ্যেষ্ঠ পীরজাদা আছেন, তাঁহার আমার কথা কি অস্বীকার করিতে পারিবেন? তাঁহার তাবড় তাবড় ভাষ্ড়্গর খলিফা ও ভক্তবৃন্দকে লইয়া শরিয়ত তরিকতের বহুল প্রচার মৌখিক ও লেখনী দ্বারা তিনি করিয়া গিয়াছেন অন্য দিকে জন সেবা ও সংস্ড়্গারমূলক কর্যø ও সংগঠন দ্বারা তিনি এই বাগানে তৈয়ার করিয়া গিয়াছেন। জেনারাল শিতি মুরিদ, হক্কানী আলেম, তাঁর কট্টর আকিদাত মন্দ, খোদাভীরু মুত্তাকী আশেক বংশধর ও তাঁর খাঁটি দূরদর্শী ভক্তদের দ্বারাই তাঁর সেলসেলা ও তাঁর আর সব প্রতিষ্ঠানগুলি কেয়ামত পর্যন্ত একমাত্র কায়েম থাকা সম্্‌ভব আর ইহাকে সেলসেলার খেদমত বলে। ভক্তবৃন্দকে উক্ত তিনদিন গোস্তভাত খাওয়ার জন্য তিনি আমদাওয়াত দেন নাই। বরং হজরতের দরবারের ঐ তিনদিনের গোস্তভাত তাবারক মনে করিয়া যত ওলি, গওস, কুতুব, আলেম, সুফি দরবেশগণ এবং আমখাস সকলে শেফায়েলকলবী ও জেসমানীর নিয়তে তাবারক খাইতেন। আলস্নামা পীর রুহুল আমনী সাঃ লিখিতেছেন উক্ত তিন দিন হজরত পীর সাঃ (রঃ) লোকদিগকে কাহারও বাটীতে খাইতে কঠোর ভাবে নিষেধ করিতেন। আলস্নাহ বলেন, “অলা, তাফার রাকু” তোমারা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হইও না, সেই ইত্তেহাদ একতাবদ্ধ রাখার উদ্দেশ্যে তিনি ইসালে সাওয়াবে ভক্তবৃন্দকে শরিক হওয়ার আমা দাওয়াত দিয়াছিলেন। মুসলিম শরীফে আছে, “লেকুলেস্ন কওমিন লেও য়াউন” (আল হাদীস) হজরত ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন। কেয়া-মতের দিন প্রত্যেক দলের একটি করিয়া নিশান থাকিবে কট্টর ভক্তবৃন্দ স্ব স্ব দলে আশ্রয় লইবে। মুনাফেক ভক্তবৃন্দ মুনাফিকের জন্য হক দল হইতে বহিস্ড়্গৃত হইয়া দোজকে নিপ্তি হইবে। সাবধান মুজাদ্দেদগণ বাগানের প্রতিষ্ঠাতা, পুত্রগণ (বংশধর) খলিফাগণ, মুরিদগণ বাগানের মালি মাত্র, কি করিলে উলিল আমর (রঃ) এর শরিয়ত সিদ্ধ বাগানটি আরও সুন্দর হয়, মজবুত হয় তাহা করিতে বলিয়া গিয়াছেন, কি করিলে অখন্ড বঙ্গ ও আসামের অগণিত গওস, কুতুব, ওলি, ওমদ, বিদ্বান, আলেম, ফাজেল সমর্থিত বাগানটি খন্ড বিখন্ড হয় তাহা করা বা তাহাতে সাহায্য করা দুই শারআন না জায়জ ও শক্ত গোনার কাজ, হাশরের ময়দানে মালিদিগকে জওয়াবদিহি করিতে হইবে।
মুজাদ্দেদ হজরত শাহ ওলিউলস্নাহ মহাদ্দেস দেহলবী (রহঃ) তাফহিমাত পুস্তকে লিখিয়াছেন, আমি ঐসব মূর্খ অযোগ্য পীরজাদা দিগকে বলিতেছি।যাহারর শুধু একমাত্র পীর বংশের দাবীটুকু লইয়াই বাপ, দাদার গদীর উপর বসিয়া আছে তাহারা এসব কি মনগড়া কাজ আরম্্‌ভ করিয়া দিয়াছে। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য আলস্নাহ রসুলের শরিয়তের আদর্শ বাদ দিয়া নিজেকে যুগের ইমাম, হাদি, মুরশেদরূপে পরিচিত হতে ব্যস্ত, আমি তাহাদিগকে ইসলাম ভ্রষ্ট বলে মনে করি। তাহার মুরিদগকে ভূল পথে আহবান করিতেছে, নিজেরা শরিয়ত জ্ঞানঅনধ।কেননা মুরিদ হইতে দুনিয়া তলবী ওখাহেশতে নাফসের তাবেদারী করার জন্য বাইআত লইতেছে ইহার ইমান চোর দাজ্জাল মিথ্যূক নিজেরা ধোকায় পড়িয়া আছে অন্যকেও ধোকা দিচ্ছে। “আলস্নাহ বলেন, এমন অনেক কাজ আছে যাহা তোমরা গোনার কাজ মনে কর কিন্তু তাহাই ভাল কাজ আর যাহা তোমরা নেক কাজ বলিয়া মনে করা আর তাহাই মন্দ কাজ, সাওয়াবের কাজ করিলেই সাওয়াব হয় না। কাজটি আলস্নাহ, রসুল ও উলিল আমরের ইত্যআত আদেশের খেলাফ হইয়া যাইতেছে কিনা তাহা জানিয়া লইবার কথাই উক্ত শাহ ওলিউলস্নাহ (রঃ) বলিয়াছেন। অতএব, হুজুর বলেছেন তাই করছি, বলিলে সব জায়গায়ই পার পাইবে না।
উলিল আমর (রঃ) এর মতবাদ, দরবার শরীফ ও ইসালে সাওয়াব বা অন্যান্য নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান যাহাতে তাঁর অসিয়াত মত কায়েম থাকে, পরে কোন রকম কাহারও দ্বারা তিগ্রস্ত না হয় সেদিকে অনেক ভক্তবৃন্দের সতর্ক দৃষ্টি রাখিয়া মরিতে হইবে এবং কেয়ামতের দিন মুজাদ্দেদ জামান (রহঃ) এর হকদলের অন্তর্ভুক্ত হইতে হইবে। তবেই নবী ও উলিল আমরের শাফাআতের আশা করিতে পারিব। শারহে মালস্না আলী ক্কারীতে নবী ও ওলিদের শাফাআতের কথা লেখা আছে। আমাদের উলিল আমর (রঃ) জানিতেন প্রাচীনকালে বহু মুজাদ্দেদ ও পীরানে তরিকতদের হক সেলসেলা ও প্রতিষ্ঠান অযোগ্য বংশধর, খলিফা ও মুরিদদের গরহিত কাজের জন্য নষ্ট হইয়া গিয়াছে। একমাত্র তাহা অসিয়াতের খেলাপ কাজ করা ও প্রতিষ্ঠানের পার্শ্বে জেরার প্রতিষ্ঠান কায়েম করার জন্যই হইয়াছে, উলিল আমর মুজাদ্দেদ জামানের (রঃ) অসিয়াত নামা (১৩৩৬ সন বাংলা)-তে ঠিক এই কথাই লেখা আছে।
স্থানে স্থানে দেখা যায় যে শরীয়ত অনুযায়ী আমলকারী খলিফা ও মুরিদ পীরের মতের বিরম্নদ্ধাচারণ করিয়া এক একজন এক এক দল তৈয়ার করিয়া সাধারণ মুসমান ভাইদিগকে গোমরাহ করিতেছে। এতএব যাহারা ফুরফুরা শরীফের এক এক হুজুরকে লইয়া একটি করিয়া ইসালে সওয়াব ও দল তৈয়ার করিবার চেষ্টা করিবে তাহারা সেলসেলার ভক্তবৃন্দ মুসমাল ভাইদিগকে গোমরাহ করিবে, এই পবিত্র সেলসেলার সহিত শত্রুতা করিবে এবং এই দলবাজী করার জন্য নরকবাসী হইবে। আলস্নাহবলেন, তোমরা দলে বিভক্ত হইও না “ওলা, তাফার রাকু” মুজাদ্দেদ জামান (রঃ) এর আশেক, সেলসেলাভুক্ত মুরিদগণ, আমাদিগকে উক্ত অসিয়াতটির মর্মউপলব্ধি করিতে হইবে। তাঁর মতাদর্শের ব্যাপক প্রচার তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলির খেদমত করিবার দায়িত্ব ভূক্ত ছোট বড় আমাদের সকলের সমান অধিকার রহিয়াছে, উলেস্নখিত চাঁদা বা দানের জিনিস, অর্থাদি একমাত্র অকফা করা স্থলে খরচ করা চলে, তাহা না হইলে দেওয়া বং লওয়া দুই নাজায়েজ। দান করিলেই সাওয়াব হয় না। এই জন্যই আলস্নাহরওলি মুজাদ্দেদ জামান (রঃ)
তাহার দরবারে বাৎসরিক ইসাসেওয়াব। ওল্ড স্ড়্গিম নিউ স্ড়্গিম মাদ্রাসা। বোডিং। দরবারের কোরআনিয়া খারেজী মাদ্রাসা। তাঁর মতবাদ তথ্য দ্বিনী প্রাচার।
ইহা সবই তিনি কোনটা অসিয়াত ওকাফ বা সাদকায়ে জারিয়া রেজেষ্টার্ড দানপত্র করিয়া খলিফাগণ, পুত্রগণ, মুরিদগণকে তাঁর উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলি কায়েম রাখিবার চেষ্টা করিতে সকলকে অসিয়াত করে গিয়াছেন। কানে কানে কে যেন গুঞ্জন করিয়া বলিতেছে, আমি আজ তোমাদের মধ্যে নাই কিন্তু এক দল আমার কট্টর ভক্ত তোমাদের মধ্যে নিশ্চয়ই থাকিবেই থাকিবে, যাহারা আমার উক্ত অসিয়াত ও মতবাদ নিঃস্বার্থ পালন করা নিজেদের উপর মওত তক্‌ ওয়াজেব করিয়া লইবেই লইবে। এবং আমার প্রতিষ্ঠানের ও সেলসেলার তি হইতে থাকিলে উক্তদল আমার এশকে মজিয়া বজ্রকণ্ঠে তাহা প্রতিবাদ করিবেই করিবে। বোধকরি ইহাদের কথাই হাদিসে ঘোষণা হইয়াছে যে, শেষ যুগে এমন একদল থাকিবে যাহারা অন্যায়ের বিরম্নদ্ধে বাদ প্রতিবাদ করিবে, তাহারা সাহবাদের ন্যায় সাওয়াব পাইবে। কোরআনে আছে। তোমরা আলস্নাহও রসুলের (দঃ) আদেশ এবং উলিল আমরের নির্দেশ মত কাজ কর। উক্ত কট্টর ভক্ত এই আয়াতের ও নবী বাণীর (মেসদাক) সত্যতা প্রমান করিয়া দেখাইবে।
আদম (আঃ) ছাড়া প্রত্যেক নবীই (আঃ) মুজাদ্দেদ ছিলেন। হাদিসে ১০০ বৎসরে মুজাদ্দেদ সম্বন্ধে নস (অকাট্য প্রমাণ) আছে। আধ্যাত্মিক জগতে বেলায়েতে মুজাদ্দেদিয়াত হইতে উচ্চ মকাম (পদ) আর নাই। “সাইয়ালামো, জালেকাল, মুজাদ্দেদো, ইলস্না, বেগালবাতিহিজ, জান্নে, মিম,মান, আসে, রিহি, মিনাল ওলামায়ে (আওনুল, মাবুদ দ্রঃ) অর্থাৎ সেই যুগের ওলামায়ে মহাক্কেক ও ভাস্ড়্গও, পন্ডিতগণ সংস্ড়্গারমূলক দ্বিনী ও দুনিয়াবী কার্যøসমুহ দেখিয়া মুজাদ্দেদ নির্ণয় করিয়া থাকেন। হজরত সৈয়দ আহমদ বেরেলবী (রঃ) মুজাদ্দেদ ছিলেন ১২৪৬ সনে ইংরেজদেও বিরম্নদ্ধে সারহাদরে যুদ্ধে শহীদ হন বা গায়েব হইয়া যান, উক্ত সন দাদা হুজুরের (রঃ) যুগ পর্যøন্তô ১০০ বৎসরের বেশী হইয়া গিয়াছিল ঐ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অখন্ড বঙ্গ, আসাম এই উপমহাদেশে কি মুজাদ্দেদ পয়দা হয় নাই? ইা হওয়া স্বীকার করিলে রসুলুলস্নার (দঃ) হাদিস বাতিল হইয়া যায়। নাউজুবিলস্নাহ আজ কাহারো অজানা নাই যে, বাংলা, আসাম ও হিন্দু স্থানের অগণিত ভাস্ড়্গর, পন্ডিত, বিদ্ধান, ফকিহ আলেমগণ ফুরফুরা শরীফের পীর আবুবকর সিদ্দিকী (রঃ) কে মুজাদ্দেদ বা উলিল আমার ও কিবরিতে আহমর কেহবা রেনাসাস, বলিয়া অকু ভাষায় ঘোষনা করিয়া যান। তাঁহার অসিয়াত, নসিহত, তাঁহার মতাদর্শকে শরিয়তপন্থী বলিয়া সমর্থন করিয়া যান, বহু পত্র পত্রিকা পুস্তôক পুস্তিôকা আজও তাহার সাড়্গ্য বহন করিতেছে। কেন? ঐ সময় কি আর এই উপমহাদেশে কোন পীর মৌলানা ছিল না? যে হজরত পীর কেবলা (রঃ) কে মুজাদ্দেদ বলিয়া ঘোষণা করা। হইল “ফাতাবেরম্ন ইয়া উলিল আবসার, হে দুরদর্শীগণ শিড়্গা গ্রহণ করম্নন। (আলকোরআন) যাহারা পীর আবু বকর সিদ্দিকী (রঃ) কে উলিল আমর মুজাদ্দেদ বলিয়া অন্তôরে বিশ্বাস করেন এবং ভালবাসেন তাঁহারা সাবধান হউন।
এড়্গণে হজরত পীর সাহেবের ইসালে সাওয়াব সম্বন্ধে আলস্নামা পীর রম্নহুল আমিন সাহেব (রঃ) এর লেখনী হইতে কিছু সেলসেলার ভক্তবৃন্দদের খেদমতে পেশ করা হইল।
জনাব আলস্নামা পীর রম্নহুল আমিন সাহেব লিখিতেছেন। হজরত পীর সাহেবের বাড়ীতে প্রতি বৎসর প্রায় ৫০/৫৫ বৎসর হইতে ফাল্‌গুন মাসে ২১-২২-২৩ তারিখে বিরাট মজলেস হইয়া থাকে, ইহাতে বাংলা, আসাম হিন্দুস্থানের বিভিন্ন প্রান্তেôর কয়েক লড়্গাধিক লোকের সমাগম হইয়া থাকে। এই সভা খাঁটি ইসলামিক সভা। এই সভাতে বঙ্গ আসামের বড় বড় সহস্রাধিক নামজাদা ওয়াএজ বক্তা আলেমগণ শুভাগমন করিয়া থাকেন, তাঁহারা ৪/৫ দিবস অনবরত কোরআন, হাদিস, তফসির, মসলা মাসায়ের ও বজর্গানে দ্বীনের জীবনী বর্ণনা করিয়া থাকেন, জরম্নরী জরম্নরী বহু মসলা মাসায়েলের আলোচনা করিয়া থাকেন, এত অধিক সংখ্যক ওলামা সম্প্রদায়ের সমাবেশ বঙ্গ আসামে এবং হিন্দুস্তôানের কোন স্থানে হইয়া থাকে বলিয়া আমি জানিনা।
বঙ্গ আসামের বহু লোক তথায় জটিল মসলা মাসায়েলের মীমাংসা হজরত পীর সাহেব ও তাঁহার খলিফাগণ কর্তৃক করিয়া লইয়া থাকেন। তথায় কেহ বাজে কেচ্ছাকাহিনী বর্ণনা করিতে এবং রাগ রাগিনী সহ গজল পাঠ করিতে পারেন না। আলেমগণ যে কেবল ওয়াজ নসিহত করিয়া ড়্গান্তô হয়েন, তাহা নহে, তাহার সাহেবজাদাগণ ও খলিফাগণ বহুদীনি কেতাব তথায় প্রচার করিয়া থাকেন, আগুন্তুকরা যে সমস্তô কেতাবের আবশ্যক বুঝিয়া থাকেন, তাহারা উহা খরিদ করিয়া লইয়া থাকেন, হইাতে স্থায়ী হেদায়েত হইয়া থাকে। হজরত পীর সাহেব কখন কখন লোকদিগকে উক্ত কেতাবগুলি ক্রয় করিয়া লইতে সমাগত লোকদিগকে উৎসাহিত করিতেন।
রম্নহানীজ্যোতিঃ আকর্ষণের জন্য সহস্র সহস্র প্রেমিক দিগদিগন্তô হইতে পতঙ্গের ন্যায় ফুরফুরা শরীফের দিকে ধাবিত হইয়া থাকে। সময় সময় দরিদ্র মুরিদ দিগকে সুদূর চট্টগ্রাম, আসাম অঞ্চল হইতে ও পদব্রজে আাসিতে দেখা যায়।
এতবড় বিরাট সভাতে কেহ চুরম্নট, সিগারেট ও তামাক পর্যøন্তô ব্যবহার করিয়া থাকে না, লড়্গাধিক লোকের লেবাস পোষাক একই ধরণের সুন্নত অনুযায়ী কি সুন্দর দৃশ্য,সমাগত লোকদের প্রাণের আবেগ, আদবকায়দা, পীরের মহাব্বত পীর ভাইদের মধ্যে প্রগাঢ় প্রেম, ভালবাসা, চলন, চরিত্র দেখিলে যেন বেহেস্তেôর নমুনা বলিয়া বোধ হয়। হজরত পীর সাহেব স্বদেশী যেন বেহেস্তেôর নমুনা বলিয়া বোধ হয়। হজরত পীর সাহেব স্বদেশী বিদেশী সমাগত লোকদের যত্ন ও খাতেরদারি ও খাওয়ার ব্যবস্থা করিতেন, হজরত পীর সাহেব ইসালে-সাওয়াবের বিরাট মাঠে প্রত্যেক স্তôরে ঘুরিয়া ঘুরিয়া সকলের অসুবিধা দূর করিতেন, সমস্তô বিষয়ের তদন্তô করিতেন সমস্তô দিবস ও অর্দ্ধরাত্রি পর্যন্তô অনাহাওে থাকিয়া সমাগত লোক দিগকে খাওয়াইয়া শেষে কিছু ভড়্গণ করিতেন। সময়ে সময়ে হজরত পীর সাহেবকে কাষ্ঠ হাতে লইয়া আসিতে দেখিয়াছি তদ্দর্শনে শত শত মাওলানা মৌলবী, দরবেশ কাষ্ঠ স্ড়্গনেধ লইয়া তাঁহার পাছে ছুটিতে দেখিয়াছে। ইহা হজরত নবী (দঃ) এর সুন্নত। বহু নামজাদা আলেম নিজেদের সম্্‌ভ্রম মর্যøাদার কথা ভুলিয়া গিয়া সমাগত লোকদিকের খাওয়ান দাওয়ানের ব্যবস্থার জন্য খেদমতগার রম্নপে দিবা রাত্র দৌড়াদৌড়ি করিতে থাকেন। এই ইসালে সাওয়াবে জেকের ও মুরাকাবা কিম্বা ওয়াজের সময়ে অতিরিক্ত ফয়েজ নাজেল হওয়ার আরও কয়েকটি কারণ আছে। এই মহাফেলে কোন প্রকার বেদরাত কার্যেøও অনুষ্ঠান হয়না, বেশী উচ্চ শব্দে জেকের নর্ত্তনকুর্দ্দন, হাতে তালি দেওয়া, রাগ রাগিনীসহ মসনবি বা গজল পাঠ ইত্যাদি হারাম ও নাজায়েজ কার্যেø অনুষ্ঠিত হয় না, পীরের পায়ে সাজদা কিম্বা কবর সাজদা কিছুতেই হইতে পারে না, বরং সাধারণ লোকে মস্তôক নত করিয়া পায়ে হাত দিয়া গোনাহগার হইবে আশঙ্কায় হুজুর কদমবুসির জন্য নিজের পা স্পর্শ করিতে কাহাকেও অনুমতি দিতেন না।
ইসালে সাওয়াবের তারিখ কাহারও জন্ম ও মৃতুøও তারিখ নহে, প্রত্যেক বৎসরে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ নির্দিষ্ট করিলে, সুদূর বঙ্গ, আসাম ও ভারতের মুরিদগণের পড়্গে জানা সময়মত উপস্থিত হওয়া অসম্্‌ভব হইয়া থাকে, এই হেতু সাধারণের উপকার হেতু ফাল্‌গুনের ২১-২২-২৩ তারিখ নির্দিষ্ট করাতে কোন দোষ নাই। হজরত নবী (দঃ) যে রূপে ধনী, দরিদ্র, আজাদ ও গোলাম এক সঙ্গে লইয়া পানাহার করিতেন, স্থানের তারতম্য করিতেন না, সেইরূপ সমস্তô শ্রেণীর লোকেরা এই প্রকার আসেন খাইয়া থাকেন, ছোট-বড়, উচ্চ-নীচ কোন বাদ বিচার নাই।
এই সভায় বহু মত অলি বোজর্গদিগের রম্নহ উপস্থিত হইয়া থাকে, ইহা কাশফ শক্তিসম্পন্ন লোকগণ দেখিতে পাইয়া থাকেন, যাহারা এসম্বন্ধে অন্ধ তাহারা অস্বীকার করিতে পারে। যাহারা কখনও তরিকত, মারেফাতের স্বাদ লাভ করিতে পারে নাই, তাহারা এই নেয়ামত হইতে বঞ্চিত।
আমার ফুরফুরার মাহফিলে যোগদান করার পূর্বে একবার হজরত পীর সাহেব ও তাঁহার কামেল খলিফাগণ হজরত নবী (দঃ) এর শুভাগমণের আত্মবিস্মৃতি সাগর নিমগ্ন হইয়া ছিলেন, নাবালেগ সন্তôানগণ চীৎকার করিতেছিল, তাহাদিগকে ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করা হইলে, তাহারা বলিয়াছিল, আমরা একটি মহা জ্যোত্যির্ময় বস্তু সভার চারিদিকে শুণ্য-মার্গে উড্ডীমান হইতে দেখিয়া এইরূপে করিতেছিলাম। ইহাতে প্রমান হয় যে, হজরত নবী (দঃ) এই মহাফেলটি কবুল করিয়া লইয়াছিলেন।
সাওয়ানেহে-ওমরি ৫৩ পৃষ্ঠা-মাওলানা আব্দুল মাবুদ মেনিপুরী সাহেব বলেন, এক দিবস আমি স্বপ্নে দেখিতেছি, লোকেরা দলে দলে চলিয়া যাইতেছে, তাহাদের মধ্যে একজন শুভ্রবস্ত্র পরিহিত জ্যোত্যির্ময় চেহারা-ধারী দীর্ঘাকৃতি ড়্গীণকায় দুর্বল মানুষ দাঁড়াইয়া বলিতেছেন, তোমরা কি বড় জামাতের মজলিসে গমন করিবে না? আমি আরজ করিলাম, আপনি কোন ব্যক্তি? তিনি মৃদু হাস্য করতঃ বলিলেন, আমি আব্দুল খালেক গেজদেওয়ানী, আমি কদমবুসি করিলাম, এমতাবস্থায় দেখিতে পাইলাম আমার মুকদুমঞ্জাদা হজরত মৌলানা পীর আবুনসর আব্দুল হাই সাহেব মৌলানা পীর আবু জফর সাহেব, হজরত মৌলানা আবুন্নজম নাজমুস সায়াদাত সাহেব এই তিনজন তাঁহার কদমবুসি কুরিলেন। তিনি সকলকে দোয়া দিতে লাগিলেন। কিন্তô নাজমুস সায়াদাতকে বুকে ধরিয়া বলিলেন ইনি আজন্ম অলি। আমি তাঁহার সঙ্গে চলিতে চলিতে দেখিলাম, যে স্থানে ইসালে সাওয়াবের মহাফেলে পাক খানকার পশ্চিম দিক মিম্বর স্থাপন করা হয়, তথায় নবী (দঃ) এর ভক্ত স্থাপন করা হইয়াছে। সাহাবাগণ (রাঃ) চারিদিকে চক্রাকাওে তশরিফ রাখিয়াছেন। এমতাবস্থায় হজরত রসুলে খোদা (দঃ) দন্ডায়মান হইয়া এরশাদ করিলেন, বড় জামায়াতের নেতাকে আমার সম্মুখে আনায়ন কর। হজরত দাদা পীর কেবলা ফুরফুরার পীর সাহেবকে হুজুরের (দঃ) সম্মুখে উপস্থিত করিলেন। হুজুর (দঃ) হজরত পীর সাহেবের মস্তôক সবুজ রংয়ের পাগড়ী, বাঁধিয়া দিয়া বলিতে লাগিলেন, বড় জামাতের নেতৃত্বে মোবারক হউক, মোবারক হউক। তৎপর হুজুরের সঙ্গে অলিগণও সাহাবাগণ হাত উঠাইয়া দোওয়া করিতে লাগিলেন এবং মোবারক বাদ দিয় সকলেই চলিয়া গেলেন। ফুরফুরার হজরতের মুরিদগণের সংখ্যা বঙ্গদেশে ৭০-৮০ লড়্গ হইবে যাহাদের মধ্যে লড়্গ আলেম বর্তমান আছেন। সুতরাং ইহার দ্বারা বুঝা যায়, উপরোক্ত স্বপ্ন অড়্গরে অড়্গরে ফলিয়া গিয়াছে। এই সভাতে প্রথম তারিখে কয়েক সহস্র কোরআন খতম, কালেমা খতম, কোল খতম, দরম্নদ খতম হইয়া থাকে, শেষ রাত্রে এই সমস্তô খতমের যাবতীয় ওয়াজ নসিহত, মিলাদশরীফ, লড়্গাধিক লোকের খাওয়ানের যে সাওয়াব তাহা হজরত নবী (দঃ) তাহার আওলাদ ও আজওয়াজে-মোতাহ হারাত, সাহাবাগণ, তাবেয়িনগণ, তাবা তাবেয়িগণ, সিদ্দিকরগণ, শহিদগণ, নেক্কারগণ, এমাম মোজতাহেদগণ, মোহাদ্দেসগণ, মোফসসরগণ, ফকিহগণ, কারিগণ, যাবতীয় ফন্নের আলেমগণ, ওলিগণ, গওসগণ, কোতবগণ, নজিবগণ, নকিবগণ, আওতাদ, ওমোদ, আবদাল, আখইয়ার, আবরার, সমস্তô তরিফার পীরগণ, হজরত আদম ও হাওয়া, উভয়ের সমস্তô মোমেন মোসলেম আওলাদ, সমস্তô নবী ও রসুল, হাজিরিন, সামেয়িন, সহায়তাকারীদেও পূর্বপুরম্নষঘন, বিশেষতঃ হজরত কোতবোল-আকতাব সুফি ফতেহ আলি সাহেব, হজরত পীর সাহেবের ওয়ালেদাত্রন মাজেদাত্রনের পাক রম্নহে পৌঁছাইয়া দেওয়া হয়, কাজেই তাঁহাদের অনেকের রম্নহ তথায় উপস্থিত হওয়ার বিশেষ সম্্‌ভাবনা।
জরকানী, ১/৮ পৃষ্ঠাতে লেখা আছে। নবী (দঃ) এর জাতমোবারক রম্নহ ও শরীর সহ দৃষ্টিগোচার হওয়া অসম্্‌ভব নহে, কেননা তাঁহার ও অবশিষ্ট নবীগণের রম্নহ কবজ করার পরে তাঁহাদের দেহে উহা ফেরত দেওয়া হইয়াছে এবং আত্মীক জগতে ও দুনিয়াতে কার্যø পরিচালনা করার জন্য তাঁহাদিগকে তাঁহাদের গোর হইতে বাহিতর হওয়ার অনুমতি দেওয়া হইয়াছে।
তফসিওে রম্নহোল বায়ান ৪/৪২৮ পৃষ্ঠাতে আছে। মুজাদ্দেদ হজরত এমাম গেজালী (রঃ) বলিয়াছেন, নবী ও সাহাবাগণের রম্নহ সহ সমস্তô জগতে পরিভ্রমণ করিতে ড়্গমতা প্রদত্ত হইয়াছেন নিশ্চয় বহু অলী তাঁহাকে দেখিয়াছেন।
মুজাদ্দেদ হজরত শাহ অলীউলস্নাহ মোহাদ্দেস দেহলবী সাহেব ফইউজুল হারামায়েন এর ২৮ পৃষ্ঠায় লিখিয়াছেন। আমি নবী (দঃ) কে বারংবার দেখিয়াছি, তিনি আমার নিকট নিজের আসল আকৃতি প্রকাশ করিতেন, যদিও আমার পূর্ণ আকাঙ্খা ছিল যে, আমি তাঁহাকে স্বশরীরে না দেখিয়া রম্নহানী সুরতে দেখি, ইহাতে আমি বুঝিতে পারিলাম যে তাঁহার বিশিষ্ট ড়্গমতা আছে যে, নিজের রম্নহকে আকৃতিধারী করিতে পারেন, ইহার দিকে নবী (দঃ) ইশারা করিয়াছেন যে, নবীগণ (দঃ) মরেন না, তাঁহারা নিজেদের গোওে নামাজ পড়িয়া থাকেন ও হজ্জ করিয়া থাকেন।
এমাম জালালুদ্দিন সইউতি এম্্‌েভবাহুল আজকিয়াতে লিখিয়াছেন- নবী (দঃ) নিজের উমমতের কোন নেককার মরিলে, তাহার জানাজাতে উপস্থিত হন।
হজরত মুজাদ্দেদ আলফে সানী (রঃ) মকতুবাতের ১/৩৬৫ পৃষ্ঠায় ২৮২ ছত্রে লিখিয়াছেন, হজরত খাজের (আঃ) ও হজরত ইলইয়াস (আঃ) তাঁহার নিকট উপস্থিত হইয়াছিলেন। সেরাতুল মোস্তôাকীম, ১৫১ পৃষ্ঠায় আছে। হজরত বড় পীর সাঃ ও খাজাবাহাউদ্দিন নকশ বন্দ (রঃ) পাক (রঃ) মুজাদ্দেদ সৈয়দ আহম বেরেলীর (রঃ) নিকট উপস্থিত হইয়াছিল। ইসালে-সাওয়াবের মজলিসে ফারেস্তôাগণরে উপস্থিতি বিশেষ সম্্‌ভব।
হজরত নবী (দঃ) এর হাদিসে, কোরআন, জেকের, তসবিহ ইত্যাদি পাঠস্থলে ফেরেস্তôাগণের উপস্থিতি হওয়ার প্রমাণ আছে।
মৌলানা আব্দুল মাবুদ সাহেব সাওয়ানেহে ওমরী কেতাবের ৮৮/৮৯ পৃষ্ঠায় লিখিয়াছেন, মৌলবী এমতেয়াজুদ্দিন সাহেব বলিয়াছেন, আমি রাত্রে স্বপ্নে দেখিয়াছি যে, একজন ফারেশতা আসমান হইতে নাজেল হইয়া আমাকে বলিতে লাগিলেন, দেখ তোমাকে সাবধান করা হইতেছে যে, অদ্য তারিখ হইতে কখনও ফুরফুরার পীর সাহেবের সম্বন্ধে কিছুই বলিওনা, আমি বলিলাম, আপনি কে? তিনি বলিলেন, আমি ফারেশতা, আলস্নাহতায়ালার পড়্গ হইতে আসিয়াছি। আলস্নাহতায়ালা বলিতেছেন, খাজা আব্দুলস্নাহ ফুরফুরার পীর সাহেব আমার ইশারা ব্যতীত কোন কার্যø করেন না আমি তাঁহার সমস্তô কার্যø নির্বাহ করিয়া থাকি। তমি দেখ না যে, ইসালে সাওয়াবে তিনি প্রত্যেক স্থানে উপস্থিত হয়েন, একজন মানুষ ওদিকে মাংস পাকিজা করার স্থানে, খাদ্য রম্নন্ধন করার স্থানে, দোকান সমূহে, ওয়াজের সভায়, দহলিজ ঘরে প্রত্যেক স্থানে কি থাকিতে পারেন? না বরং এই কার্যøগুলি নির্বাহ করিতে আমার পড়্গ হইতে ফারেশতাদিগকে নির্দিষ্ট করি। যদি তাঁহার মর্জির বিপরীতে কিছু কর, কিম্বা তাঁহার সম্বন্ধে নিন্দাবাদ কর, তবে বিনষ্ট হইয়া যাইবে।
এ স্থলে বিপড়্গ দল এই বলিয়া নিন্দাবাদ করিয়া থাকেন যে, ফারেশতাগণের মনুষ্যের কার্যেø সহায়তা করা বাতিল কথা। কোরআন শরিফে আছে, বদও ও হোনাএন যুদ্ধে ফারেশতাগণ নবী ও সাহাবাগণের সাহার্যøার্থে নাজেল হইয়াছিলেন। হজরত সৈয়দ আহমদ বেরেলবী (রঃ) সাহেবের মলফুজাতে আছে যে, ফারেশতাগণ তাঁহার সহায়তা করিতে তাঁহার সহকারী থাকিতেন।
এসাম মাহদীর সহায়তা ফারেশতা কর্তৃক সাধিত হইবে, ইহা ফতু হাতে মক্কিয়াতে আছে।
তফসিরে আবু সউদ, ৭/৬৪৮ পৃষ্ঠা রম্নহোলবায়ান ৩/৪৫২ পৃষ্ঠা ও রম্নহোলামাআনী ৭/৪৯০ পৃষ্টাতে আছে। তাঁহাদের (ওলীগনণের) উপর ফারেশতাগণ নাজেল হইয়া থাকেন। দ্বীন দুনিয়ার যে কার্যøগুলি তাঁহাদের সম্মুখে উপস্থিত হয়, উক্ত ফেরেস্তôাগণ তৎসমুদয়ে তাঁহাদের সাহায্য করেন এলহাম ভাবে সিনা (বড়্গদেশ) প্রশস্তô করিয়াছেন এবং তাঁহাদেও ভয় ও দুঃখ নিবারণ করিয়াছেন। আরও উক্ত তিন তফসিওে উক্ত পৃষ্ঠায় আছে। (ফারেশতাগণের উক্তি) আমরা তোমাদের কার্যসমূহে তোমাদেও সাহায্যকারী, আমরা তোমাদিগকে সত্য মতের এলহাম করিয়া থাকি এবং যে কর্মে তোমাদের কল্যাণ (ভালাই) ও হিত হয়, আমরা তোমাদিগকে সেই কার্যেøর দিকে পথ দেখাইয়া থাকি। সওয়ানেহে ওমরি, লিখিত মৌলবী এমতেয়াজুদ্দিন সাহেব উলিস্নখিত স্বপ্নটি সত্য হওয়া ও শরিয়তের মোয়াফেক হওয়া সপ্রমাণ হইল।
ফুরফুরা শরীফের মাদ্রাসার জন্য বৎসরে কিছু কিছু চাঁদা সংগ্রহ করা হইয়া থাকে, ইহাতে হজরত পীর সাহেবের ব্যক্তিগত কোন স্বার্থ নাই, সমস্তô বঙ্গ ও আসামের এতিম দরিদ্র শিড়্গার্থীদের পড়্গে এত বড় সুযোগ সুবিধা বঙ্গ ও আসামে কোথাও দেখা যায় না, বঙ্গ ও আসামের ছাত্রদের উপকারার্থে যে বিরাট দুই স্ড়্গীমের মাদ্রাসা ও হাদিসের দাওরা চলিতেছে, উহার জন্য চাঁদা তুলিয়া উহাতে ব্যয় করা সাওয়াবের কার্যø হইবে।
হজরত নবী (দঃ) জেহাদেও ব্যয়নির্বাহ করিতে, পাণির অভাব দূরীকরণ উদ্দেশ্যে (রম্নসা) নামক কুপ খরিদ করিতে এব মদিনা শরীফের মসজেদে মুসমানদিগের স্থান সঙ্কুলন না হওয়ায় পাশ্ববর্তী জমি ক্রয় করিতে সাহাবাগণের নিকট হইতে চাঁদা সংগ্রহ করিয়াছিলেন।
সহস্র সহস্র লোক জ্বেন দৈত্যেও উপদ্রব নানাবিধ তদবির করিয়া কোন উপকার না পাইয়া নিরম্নপায় হইয়া ফুরফুরার হজরতের নিকট হইতে তৈল পানি কালোজিরা পড়া ও তাবিজ তুমার লইয়া কত লড়্গ লড়্গ জ্বেন দৈত্যগ্রস্তô রোগী সুস্থ্য হইয়া গিয়াছে, তাহার ইয়ত্তা করা যায় না। (আউজ, বেকালেমাতিলস্নাহিত, তামমাতে শেষ পর্যøন্তô) সাহাবা আব্দুলস্নাহ বেনে আমর (রাঃ) বালেগ সন্তôানদিগকে ঐ দোওয়া শিড়্গা দিতেন, নাবালেগদিগণের জন্য উহা লিখিয়া তাহাদেও গলায় লটকাইয়া দিতেন। (আবুদাউদ, তেরমিজী, মিশকাত,) ইসালে সাওয়াবের বহু সহস্র লোকের সমাগম হওয়ায় লোকদিগকে খাওয়াইতে রাত্রি ১০/১২টা বাজিয়া যায়, সকলকে একবা খাওয়ানো সম্্‌ভব হইয়া উঠে না, এই হেতু আগন্তুকদিগের সুবিধা হেতু কতকগুলি দোকান বসানো হয়। হজরত পীর সাহেব লোকদিগকে কাহারও বাটীতে খাইতে কঠোরভাবে নিষেধ করিতেন। কেবল আমি গশত সহ্য করিতে পারি না, এই হেতু আমাকে অন্য বাড়ীতে সময় সময় ভড়্গণ করিতে অনুমতি দিয়া ছিলেন, দোকানদারগুলি বিশেষ ভদ্র ও বিনয়ী এবং আগন্তুকরা তো প্রায় আহলোলস্নাহ, কাজেই কখন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে কোন কলহ ফেসাদ শুনা যায় না।
হজরত পীর সাহেবের ভক্তগণ কতক গরম্ন, ঘৃত, চাউল ইত্যাদি দান করিয়া থাকেন, কিন্তু উ্‌হার অধিকাংশ হজরত পীর সাহেব নিজেই ক্রয় করিয়া থাকেন। যাহারা তথায় রন্ধন করিয়া থাকেন, তাহারা হজরতের এত অনুগত ভক্ত যে, কখন তাঁহাদেও মধ্যে কলহ ফেসাদ ও অহিত আচরণের কথা শুনি নাই।
হজরত পীর সাহেবে এই জলসার জন্য কতকগুলি শামিয়ানা, কতগুলি বড় বড় দেগ, কতগুলি শফ, কতকগুলি টিনের বাসন ও কতকগুলি ডেলাইটে আকফ করিয়া গিয়াছেন। ইহা যে কেবল দীনি জলসা তাহা নহে, ইহাতে রাজনীতিক ও সমাজনীতিক বিষয়ের আলোচনা ও প্রস্তôাবিত পাস লইয়া থাকে, সময় সময় এই স্থলে এসডিও, ম্যাজিষ্ট্রেট এবং বহু এমএলএ, মন্ত্রীগণ পদার্পণ করিয়া এই অধিবেশনের গুরম্নত্ব অধিক হইতে অধিকতর করিয়া থাকেন, তাঁহারা ছাত্রদেও পুরস্ড়্গার বিতরণ করিয়া থাকেন। এই স্থলে হাদিসের দওরার শেষ পরীড়্গায় উত্তীর্ণ ছাত্রদিগকে ফকরম্নল মোহাদ্দেসীন উপাধি বিতরণ করা হয়।
এখানে উলেস্নখ করা যাইতে পারে যে, হজরত পীর সাহেব আজীবন আলেম সমাজের ও সাধারণ সমাজের বহু কল্যাণ সাধন করিয়াছেন, সামাজিক ও রাজনীতিক ব্যাপারে বহু কল্যান সাধন করিয়াছেন।
যখন মিষ্টার গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন ও মুসলামনদিগের খেলাফত আন্দোলনে দেশের হিন্দু মুসলামনগণ ড়্গিপ্ত হইয়া উঠেন, মিষ্টার গান্ধী, মিষ্টার সি আর দত্ত, মাওলানা মহাম্মদ আলী প্রমুখ নেতাগণ গবর্ণমেন্টের স্ড়্গুল, কলেজ, মাদ্রাসা কিম্বা সরকারী সাহায্য প্রাপ্ত বিদ্যালয় বর্জন করিতে আদেশ প্রচার করেন, সরকারী আইন অমান্য করিতে লোকদিগকে উদ্বুদ্ধ করিতে ছিলেন, কোন কোন মুসলমান পত্রিকা লবন প্রস্তুত করিতে, বৈদেশিক গর্ভণমেন্টকে এদেশ হইতে তাড়াইতে পরামর্শ দিতেছিলেন, সেই সময় হজরত পীর সাহেব তাঁহার “হানাফি” পত্রিকা মারফতে প্রচার করেন যে, রাজ আইন মান্য করিতে হইবে, তবে জাতীয় স্ড়্গুল, কলেজ, মক্তব, মাদ্রাসা বয়কট অনুচিত হইবে।
সেই সময়ে মিষ্টার গান্ধী, মাওলানা মহাম্মদ আলী, মাওলানা আজাদ সোবাহানী, ডাক্তার কিচলু, মাওলানা শওকত আলী, প্রমুখ কতিপয় হিন্দ মুসলমান নেতা পীর সাহেবের দরবারও টিকাটুলি মসজিদে উপস্থিত হইয়া তাঁহাকে কংগ্রেসে যোগদান করিতে অনুরোধ করেন, ইহাতে তিনি স্পষ্টভাবে বলিয়াছিলেন, আমি কোরআন ও হাদিসের পড়্গাপাতি, কংগ্রেস যদি ভারতে মুসলমানের স্বতন্ত্র, ইসলামের নিরাপত্তার প্রতিশ্রম্নতি দিতে পারে, তাহা হইলে কংগ্রেসে যোগ দিতে আমাদের আপত্তি নাই, কিন্তô যে মুহুর্তে কংগ্রেস উভয়ের কোন একটির বিরম্নদ্ধচারণ করিবে, তখনই কংগ্রেস আমার সহায়তা পাইবেনা।
এসেম্বেলী নির্বাচনকালে হজরত পীর সাহেব যে সমস্তô লোককে সমর্থন করিয়াছিলেন, তাঁহাদের অনেকে নির্বাচিত হইয়াছিলেন, যখন প্রজা পার্টি ও লীগ পালামেন্টারি বোর্ডের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে উপস্থিত হয়, তখন হজরত পীর সাহেব লীগ বোর্ডকে সহায়তা করেন, এই হেতু লীগ পালামেন্টারি বোর্ডের বেশী সংখ্যক সদস্য নির্বাচনী সংগ্রামে জয়লাভ করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। তাছাড়া এই নির্বাচনের এই দুইটি বিরোধী দলকে একত্র করিয়া যে “কোয়ালেশন” দল গঠিত হইয়াছে। ইহাতেও পীর সাহেবের যথেষ্ট চেষ্টা ও যত্ন ছিল। সারদা আইন লইয়া দেশময় তুমুল আন্দোলনের সৃষ্টি হয়, মেয়ের বয়স ১৪ বৎসর ও ছেলের বয়স ১৮ বৎসর না হইলে, বিবাহ নিষিদ্ধ হওয়ার আইন কেন্দ্রীয় পরিষদে পাশ হইয়া যায়। ইহা মুসলমানদিগের কোরআন ও হাদিসের বিপরীত মত। কোরআন শরীফে সুরা নেশার ১/১৮, রম্নকুলে এতিমদিগের বিবাহ জয়েস হওয়ার কথা লিখিত আছে। নাবালেগ ছেলেমেয়েকেও এতিম বলা হইয়া থাকে। হজরত পীর সাহেব উহার প্রতিবাদমূলক প্রস্তôাব কর্তৃপড়্গের নিকট প্রেরণ করেন এবং মনুমেন্টের নীচে বিরাট সভায় উহার প্রতিবাদে বলেন যে, মহারাণী ভিক্টোরিয়া কাহারও ধর্মে হস্তôড়্গেপ না করার প্রতিশ্রম্নতি প্রদান করিয়া গিয়াছেন, এই সারদা বিলে উহা ভঙ্গ করা হইয়াছে। কোরআন শরীফ আমার সম্মুখে, হাদিস শরীফ ডাইন পার্শ্বে, ব্রিটিশ আইন আমাদের কোরআন ও হাদিসের বিপরীতে না হয়, তবে আমরা উহা সমর্থন করিতে বাধ্য, আর উহার বিপরীহ হইলে, আমি রাজদ্রোহিতা হইলেও উহার প্রতিবাদ করিতে বাধ্য।
প্রতি বৎসর ইসালে সওয়াবের মহাফিলে বড় বড় সাংবাদিক উপস্থিত হইয়া থাকেন। বঙ্গের খ্যাতনামা ওয়ায়েজ বক্তাদেও প্রথম পরিচয় এইদিন হইতে হইয়া থাকে, মরহুম মুনশী শেখ জমিরম্নদ্দিন কাব্য বিনোদ, মৌলানা আব্দুল মাবুদ মেদিনীপুরী মরহুম মোঃ সুফি হাজী জহিরদ্দিন মাওলানা ফজলুর রহমান কপরহাট, মওলানা ময়েজদ্দিন হামিদী, মওলানা আহমদ আলী এনায়েত পুরী, মওলানা আজিবর রহমান এসলামাবাদী, মওলানা মকবুল হোসেন আক্কেল পুরী, মওলানা ফয়েজর রহমান মোহম্মদপুরী, মৌলবী রম্নহুল কুদ্দুস সইদ পুরী, মওলানা হাফিজুদ্দিন বশিকপুরী, মওলানা ইরাকুব এসলামাবাদী, মওলানা ফজলুর রহমান নেজামপুরী, মওলানা হাজী এলাহীবখশ নেজাম পুরী প্রভৃতি খ্যাতনামা ওয়াএজগণ এই স্থান হইতে বঙ্গ ও আসামে পরিচিত হইয়াছেন। যাহাঁরা এই স্থানে উপস্থিত হইয়া থাকেন, তাঁহারা ওয়াজ নসিহত শিড়্গা করার সুযোগ লাভ করিয়া থাকেন। এত বড় প্রতিনিধিমূলক সভা বঙ্গ ও আসাম কেন ভারতে কুত্রাপি হইয়া থাকে না।
আজখোদা, খাহেমে, তৌফিককে, আদব।
বে, আদব, মহরম্নমে, গাস্তô,
আজ, ফজলে, রব
-ঃ শুভ সমাপ্তিঃ-
আহকার-পীরজাদা কুতবদ্দিন সিদ্দিকী

Saturday, 2 August 2014

ইখলাছ কি?

ইখলাছ কি?
আভিধানিক অর্থে ইখলাছ হল কোন বস্তুকে খালি করা বা পরিস্কার করা
শরিয়তের পরিভাষায় ইখলাছ দ্বারা উদ্দেশ্য কি-তা নির্ণয়ে বিজ্ঞ আলেমদের মত ও মন্তব্য ভিন্ন ভিন্ন
কেউ বলেছেন, ইখলাছ হল : ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক বলে গ্রহণ করাযেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন-
وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا . الكهف : 100
সে যেন তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে  সূরা আল-কাহফ : ১১০
কারো মত হল, অন্তরকে পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত করে, এমন যাবতীয় নোংরামী ও অসুস্থতা হতে অন্তরকে পবিত্র করাভিন্ন কারো মত-স্বত:প্রণোদিত হয়ে আল্লাহর আনুগত্যে আত্মনিবেদন
আবার কারো মত এই যে, ইখলাছ হল, আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন, তা পালন করা তার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেএবং যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা তার সন'ষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে
ভাষার পার্থক্য থাকলেও সংজ্ঞাগুলোর মূল বক্তব্য এটাইযে মৌলিক নীতিমালাকে কেন্দ্র করে আলেমগণ ইখলাছের সংজ্ঞা নিরূপণ করেছেন, তা হলো- ইবাদত-বন্দেগী-সৎকর্ম বলতে যা কিছু আছে, সবই একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য সম্পাদন করার নাম ইখলাছআল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্য নিয়ে ইবাদত পালন করলে তাকে ইখলাছ বলে গণ্য করা হবে নাএমনিভাবে, সকল পাপাচার থেকে মুক্ত থাকার উদ্দেশ্য হবে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জন
ইবাদত ও কর্মসম্পাদন একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন ও ইখলাছ আনয়নের বিভিন্ন রূপ হতে পারে- কেউ কেউ আল্লাহর ইবাদত করেন তার প্রতি সম্মান ও মর্যাদা জ্ঞাপনার্থেঅপর কেউ ইখলাছকে ভাবেন আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের প্রবেশিকা হিসাবেকারো উদ্দেশ্য থাকে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন'ষ্টি লাভঅপর কেউ ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সুনিবীড় সম্পর্ক ও পরম আস্বাদ লাভে প্রয়াসী, কিংবা পরকাল দিবসে মহান আল্লাহর সাক্ষাত লাভে প্রত্যাশী-যেদিন আল্লাহর সাক্ষাতে সারিবদ্ধ হবে বান্দাগণনির্দিষ্ট কোন প্রাপ্তিকে উদ্দেশ্য করে নয়-কারো কারো ইবাদতের লক্ষ্য থাকে যে কোন প্রকারে পুরস্কার প্রাপ্তি, আবার কারো ইবাদতের লক্ষ্য নির্দিষ্ট কোন সওয়াব লাভকেউ কেউ আল্লাহর ভয়ে ভীত হন নির্দিষ্ট কোন আযাবের কথা স্মরণ করে, অপর কেউ নির্দিষ্ট কোন আযাবের কথা স্মরণ করে নয়, আল্লাহকে ভয় করেন তার যে কোন আযাবের ভয়াবহ পরিণতির কথা চিন্তা করে
সন্দেহ নেই, ইবাদতে মানুষের ইচ্ছাবৃত্তির বৈচিত্র্য এক বিশাল অধ্যায়, একেক সময় তার মাঝে ক্রিয়াশীল থাকে একেক ধরণের ইচ্ছা, কখনো সে প্রণোদনা লাভ করে একাধিক ইচ্ছার দ্বারাকিন্তু ইচ্ছার এ বৈচিত্র্যও একক এক লক্ষ্যের প্রতি সতত ধাবিত-বান্দা তার কাজ-কর্ম ও যাবতীয় মনোবৃত্তির দ্বারা একমাত্র আল্লাহকে পাওয়ার আকাঙ্খাকে তীব্র করে তোলে, অন্য কাউকে নয়এ সবই ইখলাছেরই সত্যায়নএ সব ইচ্ছা যার মাঝে ক্রিয়াশীল, সে-ই সিরাতে মুস্তাকীমের অধিকারী, হেদায়েত ও বিশুদ্ধ লক্ষ্যপানে ধাবিততবে বান্দার উচিৎ তার ইবাদতকে আল্লাহপ্রেম, ভীতি ও আশা থেকে কখনো বিযুক্ত করবে নাকারণ, ইবাদতের প্রতিষ্ঠাই এই ত্রিমাত্রিক লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে